বিহার পুলিশের অন্দরে যে এমন এক 'মহারাজা' লুকিয়ে ছিলেন, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি তাঁর সহকর্মীরা। কিন্তু গল্পের আসল চমক লুকিয়ে রয়েছে এই পুলিশকর্তার বিলাসবহুল জীবনযাত্রা এবং তাঁর নাম জড়িয়ে থাকা মহিলাদের তালিকায়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও সামনে আসাতেই ফাঁস হয় রহস্য
শেষ আপডেট: 10 April 2026 15:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কখনও থার চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, আবার কখনও রয়্যাল এনফিল্ডের সঙ্গে পোজ দিচ্ছেন, হাতে বান্ডিল বান্ডিল টাকা! তাঁর পেশা বলছে, তিনি নিছকই একজন পরিচারিকা। সেই সূত্র ধরেই, সামনে এল এমন এক তথ্য যা দেখে রীতিমতো ধন্দে পড়েছেন গোয়েন্দারা।
বিহার পুলিশের অন্দরে যে এমন এক 'মহারাজা' লুকিয়ে ছিলেন (Bihar Cop Corruption), তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি তাঁর সহকর্মীরা। কিষাণগঞ্জের সাসপেন্ড হওয়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO) গৌতম কুমারের দুর্নীতির যে পাহাড়প্রমাণ খতিয়ান (Kishanganj SDPO suspended corruption) সামনে এসেছে, তাতে কার্যত স্তম্ভিত রাজ্যের প্রশাসন।
ইকোনমিক অফেন্স ইউনিট (EOU) তল্লাশি চালিয়ে এখনও পর্যন্ত ৮০ কোটি টাকার হিসেব বহির্ভূত সম্পত্তি (Bihar police 80 crore scam) উদ্ধার করেছে। কিন্তু গল্পের আসল চমক লুকিয়ে রয়েছে এই পুলিশকর্তার বিলাসবহুল জীবনযাত্রা এবং তাঁর নাম জড়িয়ে থাকা মহিলাদের তালিকায়।
পরিচারিকার কাছে থার, নজরে 'পারো'
গৌতম কুমারের এই দুর্নীতির রহস্য ফাঁস হওয়ার পিছনে একটি ভাইরাল ভিডিও-র বড় ভূমিকা রয়েছে। গৌতমের বাড়িতে কাজ করতেন পারো নামের এক মহিলা। সাধারণ এক পরিচারিকা হওয়া সত্ত্বেও তাঁর জীবনযাত্রার বহর ছিল রাজকীয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একাধিক ছবিতে দেখা গেছে, পারো কখনও মহার্ঘ 'থার' এসইউভি হাঁকাচ্ছেন, কখনও আবার রয়্যাল এনফিল্ড বুলেটে সওয়ার। শুধু তাই নয়, টাকার বান্ডিল হাতে নিয়ে তাঁর ছবিও শোরগোল ফেলে দিয়েছে। গোয়েন্দাদের দাবি, গৌতম কুমারের হয়ে যাবতীয় আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তি দেখভাল করতেন এই পারোই। ইওইউ তদন্ত শুরু করতেই সপরিবারে বেপাত্তা তিনি।
১৬টি প্লট, ৪ স্ত্রী ও ৭ বান্ধবী!
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, গৌতম কুমারের সম্পত্তির নেটওয়ার্ক এক বিশাল জালের মতো ছড়ানো। পূর্ণিয়াতে তাঁর ১৬টি প্লট রয়েছে। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হল, একটি প্লটও তাঁর নিজের নামে নেই। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, এই জমিগুলো রেজিস্ট্রি করা হয়েছে তাঁর ৪ জন স্ত্রী, ৭ জন বান্ধবী, ৩ জন শাশুড়ি এবং এক ছেলের নামে! সম্পর্কের এই গোলকধাঁধায় গোয়েন্দারাও রীতিমতো অবাক। এছাড়া শিলিগুড়িতে একটি বিশাল চা বাগান, একটি বাংলো এবং একটি দোতলা বাড়ির হদিশও মিলেছে।
রাজনীতিতে আসার স্বপ্ন ও কোটি কোটি টাকা স্থানান্তর
কেন এই বিপুল সম্পত্তি হাতানো? ইওইউ-র দাবি, ২০৩০ সালে অবসরের পর রাজনীতিতে আসার স্বপ্ন দেখছিলেন গৌতম কুমার। তার আগে কিষাণগঞ্জ থেকে নিজের এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবীকে নির্বাচনে প্রার্থী করার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তিনি। মূলত সেই বান্ধবীর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা মেটাতেই কোটি কোটি টাকা অবৈধ পথে রোজগার শুরু করেছিলেন এই পুলিশকর্তা। গত ৭ এপ্রিল তাঁকে সাসপেন্ড করেছে বিহার সরকার।
পড়শি রাজ্যেও জাল
কিষাণগঞ্জ, পাটনা এবং পূর্ণিয়ার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতেও থাবা বসিয়েছিলেন গৌতম। তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেই অনুমান করা হচ্ছে। আপাতত তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, কীভাবে একজন পুলিশ আধিকারিক এতগুলো বছর ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় এই বিপুল সম্পত্তি ও জটিল পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রেখে চললেন। বিহারের পুলিশ মহলে এখন একটাই আলোচনা, সিনেমার চিত্রনাট্যও বোধহয় গৌতম কুমারের এই 'হাই-প্রোফাইল' জীবনযাত্রার কাছে হার মানবে।