সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশে অনিল ধীরুভাই আম্বানি গ্রুপ (ADAG)-এর বিরুদ্ধে ব্যাংক জালিয়াতি (Bank Fraud) ও আর্থিক অনিয়মের একাধিক মামলা খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে ইডি।

অনিল আম্বানি
শেষ আপডেট: 26 February 2026 13:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ শিল্পপতি (Industrialist), এশিয়াকুলতিলক মুকেশ আম্বানির (Mukesh Ambani) অনুজ অনিল আম্বানির (Anil Ambani) সময়টা ইদানীং একেবারেই ভাল যাচ্ছে না। রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস (আরকম)-এর ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি সংক্রান্ত অর্থপাচার মামলায় (Anil Ambani Appears Before Probe Agency ED) বৃহস্পতিবার দিল্লির ইডি (ED Anil Ambani) দফতরে হাজিরা দিলেন ৬৬ বছর বয়সি এই শিল্পপতি। অনিলকে (Anil Ambani in ED Office) এদিন দ্বিতীয় দফার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করেন কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা।
বিপুল অঙ্কের ঋণ ও ইডির খাঁড়া
ইডি সূত্রের খবর, অনিল আম্বানির সংস্থা ‘আরকম’ দেশি ও বিদেশি ব্যাংকগুলি থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়েছিল। বর্তমানে সেই বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০,১৮৫ কোটি টাকায়। অভিযোগ, ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের টাকা নয়-ছয় করা হয়েছে। এই মামলার তদন্তেই গত নভেম্বর মাসে তাঁর মুম্বইয়ের (Mumbai) ভিলে পার্লের সম্পত্তির একটি অংশ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। আর বুধবার পালি হিলের ১৭ তলার সুউচ্চ প্রাসাদ ‘অ্যাবোর্ড’ সাময়িকভাবে বাজেয়াপ্ত (Provisional Attachment) করেছে ইডি (ED News)। এই নিয়ে অম্বানী-অনজের মোট ১৫,৭০০ কোটি টাকার সম্পত্তি এখন কেন্দ্রীয় সংস্থার কবজায়।
আদালতের নির্দেশে তদন্তের গতি
সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশে অনিল ধীরুভাই আম্বানি গ্রুপ (ADAG)-এর বিরুদ্ধে ব্যাংক জালিয়াতি (Bank Fraud) ও আর্থিক অনিয়মের একাধিক মামলা খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে ইডি। গত বছরের অগস্ট মাসেও একবার এই মামলায় হাজিরা দিয়ে বয়ান নথিভুক্ত করেছিলেন অনিল। তবে সম্পত্তির পাহাড় বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর বৃহস্পতিবারের এই হাজিরা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত দু'-দশকে অনিল আম্বানির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যে একের পর এক ধস নেমেছে। বিদ্যুৎ থেকে প্রতিরক্ষা— সব ক্ষেত্রেই এক সময় তাঁর জয়জয়কার থাকলেও বর্তমানে তাঁর ভাগ্য অনেকটাই অস্তমিত। তদন্তকারীদের দাবি, পিএমএলএ (PMLA) আইনের আওতায় এই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে যাতে তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্ত সেই সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করতে না পারেন।
দিল্লির ইডি দফতরে (Delhi ED Office) অনিলের এই হাজিরা এবং মুম্বইয়ের বিলাসবহুল অট্টালিকা বাজেয়াপ্ত করার ঘটনা রিলায়েন্স গ্রুপের অন্দরে যে বড়সড় কম্পন ধরিয়েছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।