স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) জেরা শুরু করতেই প্রাক্তন ওই সাফাইকর্মীর বয়ানে নানা তথ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে।

ঘটনাস্থলের ছবি
শেষ আপডেট: 23 August 2025 13:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকের ধর্মস্থল গণকবর কাণ্ডে এ বার বড়সড় মোড়। যে প্রাক্তন সাফাইকর্মী এই ঘটনা জনসমক্ষে এনে দেশের সামনে তুলে এনেছিলেন, সেই অভিযোগকারীকেই এবার গ্রেফতার করল সিট। প্রকাশ্যে এল তাঁর নামও, সি.এন. চিননায়া ওরফে চেন্না।
পুলিশ সূত্রে খবর, মিথ্যা বলার অপরাধে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, তাঁর সমস্ত দাবি ছিল ভুয়ো ও সাজানো।
চেন্নার নাম প্রথমবার সামনে এল এই ঘটনায়। এতদিন তাঁকে সবাই চিনত ‘মুখোশধারী মানুষ’ নামে, কারণ তিনি নিজের পরিচয় গোপন রেখে সাক্ষী সুরক্ষার দাবি জানিয়েছিলেন।
প্রাক্তন ওই সাফাইকর্মী আগে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বয়ান দিয়েছিলেন। কিন্তু স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) জেরা শুরু করতেই তাঁর বলা নানা তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। SIT-এর ক্রস-প্রশ্নে প্রমাণিত হয়, তিনি মিথ্যা বলছেন। এর পরই তাঁর সাক্ষী সুরক্ষা তুলে দেওয়া হয় এবং পরে গ্রেফতারও করা হয়।
শনিবার সকালে তাঁকে প্রথমে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়, পরে আদালতে তোলা হয়।
এই মামলায় আরেকটি চমকপ্রদ মোড় উঠে এসেছে। সুজাতা ভাট নামে এক মহিলা দাবি করেছিলেন, তাঁর মেয়ে অনন্যা ভাট, এক এমবিবিএস পড়ুয়া, নিখোঁজ। তিনি স্থানীয় এক ইউটিউব চ্যানেলকে জানান, আদতে অনন্যা বলে কেউ নেই। আবার পরবর্তীতে তিনি দাবি করেন, চাপের মুখে তিনি ওই স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন।
গত জুলাইয়ে চেন্না একটি খুলি নিয়ে থানায় হাজির হয়েছিলেন। দাবি করেছিলেন, তিনি শতাধিক দেহ গ্রামে মাটিচাপা দিতে সাহায্য করেছিলেন। মৃতদের মধ্যে ধর্ষিতা তরুণীও ছিলেন। তিনি বলেন, তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অপরাধবোধ থেকেই তিনি পুলিশকে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। এই ঘটনায় মন্দিরের নাম জড়িয়ে পড়ে, অভিযোগ ওঠে যে, মন্দিরের নির্দেশেই ওখানে মাটি চাপা দিয়ে দেহ লোপাট করা হত। মন্দিরের প্রধান সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে জানান সংবাদমাধ্যমকে।
এই ঘটনার জেরে প্রবল রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়। বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস সরকার ইচ্ছে করে ধর্মস্থলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চাইছে। বিজেপি দাবি করে, এই ঘটনার মাধ্যমে রাজনৈতিক লাভ তুলতে চাইছে শাসকদল।
এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিজেপি বিধায়ক ভরত শেট্টি অভিযোগ করেন, ‘মুখোশধারী’ মানুষ আর সুজাতা ভাট আসলে পুতুল, তাঁদের দিয়ে কেউ কাজ করাচ্ছে। আসল মাথাদের সামনে আনা দরকার। তিনি আরও দাবি করেন, SIT গঠনের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং এর পেছনে প্রচুর অর্থসাহায্য চলছে।
অন্যদিকে, কংগ্রেস শিবির বিজেপিকে পাল্টা আক্রমণ করে। উপমুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমার বলেন, “ধর্মস্থল পরিবার নিজেরাই মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছেন যে তদন্ত ভালভাবে এগোচ্ছে। সরকার কারও পক্ষ নেয় না, শুধু চাই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি না হোক।”