দীর্ঘ এক দশক ধরে একাধিক জেলায় সংগঠিত হয়েছে এই নৃশংসতা। ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বান্দা ও চিত্রকূটে ধারাবাহিকভাবে শিশুদের টার্গেট করা হয়। রামভবন সেচ দফতরে নিম্নপদস্থ প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

দোষী সাব্যস্ত দম্পতি
শেষ আপডেট: 21 February 2026 10:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের বান্দায় শিশু নির্যাতনের (Uttar Pradesh Child Abuse) এক ভয়াবহ মামলায় দোষী সাব্যস্ত দম্পতিকে মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত (UP Couple Death Sentence)। বিশেষ শিশু সুরক্ষা আইনের অধীন গঠিত আদালতের বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত রামভবন এবং তাঁর স্ত্রী দুর্গাবতীর বিরুদ্ধে ৩৩ জন শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। নির্যাতিতদের মধ্যে কয়েকজনের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর।
আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, দীর্ঘ এক দশক ধরে একাধিক জেলায় সংগঠিত হয়েছে এই নৃশংসতা। ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বান্দা ও চিত্রকূটে ধারাবাহিকভাবে শিশুদের টার্গেট করা হয়। রামভবন সেচ দফতরে নিম্নপদস্থ প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শিশুদের প্রলোভন দেখাতে তিনি নানা কৌশল নিতেন - অনলাইনে খেলাধুলার সুযোগ, টাকা, উপহার ইত্যাদি দিয়ে তাদের ফাঁদে ফেলতেন।
তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে আনে। একাধিক শিশুর দেহে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। কারও কারও গোপনাঙ্গে আঘাত এতটাই মারাত্মক ছিল যে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছে। কয়েকজনের চোখে আঘাতেরও প্রমাণ মেলে। অধিকাংশই এখনও গভীর মানসিক আঘাতের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।
২০২০ সালের অক্টোবরে অভিযোগ দায়েরের পর শুরু হয় তদন্ত। শিশুদের চিকিৎসা পরীক্ষার পাশাপাশি মানসিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় রেখে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণে। এই সুসংহত তদন্তের ভিত্তিতেই ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালতে চার্জশিট জমা পড়ে।
রায়ে আদালত জানায়, অপরাধের প্রকৃতি এবং নিষ্ঠুরতার মাত্রা বিচার করলে এটি ‘অত্যন্ত বিরলতম’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। একাধিক জেলায় দীর্ঘ সময় ধরে সংঘটিত এই অপরাধ এবং নৈতিক অবক্ষয়ের চরম উদাহরণ হিসেবে দোষীদের ক্ষেত্রে সংশোধনের কোনও সুযোগ নেই বলেই মত আদালতের। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে সর্বোচ্চ দণ্ডই প্রযোজ্য।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, প্রত্যেক নির্যাতিতকে দশ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে সরকারকে। অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া অর্থও সমানভাবে ভাগ করে দিতে হবে। তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, শিশুদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ জারি থাকবে।