আব্দুলকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হলেও, তার আগেই গোটা চক্রের পর্দা ফাঁস করতে তৎপর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। ফোন কল ও চ্যাটের মাধ্যমে সংযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

'নেহা' পরিচয়ে ভোপালে ছিলেন বাংলাদেশি যুবক
শেষ আপডেট: 19 July 2025 19:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেহা পরিচয়ে ভারতে থাকছিলেন বাংলাদেশি যুবক। দু'দশক টের পেল না কেউ! এই নামেই রয়েছে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড-সহ সমস্ত পরিচয় পত্র। মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে দিব্যি কাটছিল দিন। শেষমেশ পুলিশের তদন্তে ফাঁস হল আসল গল্প। 'নেহা'র ছদ্মবেশে রয়েছেন আব্দুল (Bhopal Police has detained a Bangladeshi national)।
ভোপাল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আব্দুলের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ ও ভুয়ো নথিপত্র তৈরি করে বিদেশ সফরের অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনা দেশের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। আব্দুলের কোনও বড় চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে, এই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ (Organised racket of illegal immigration and identity fraud)।
পুলিশ সূত্রে খবর, মাত্র ১০ বছর বয়সে বাংলাদেশ (Bangladesh) থেকে ভারতে (India) চলে আসে আব্দুল। দীর্ঘ ২০ বছর কাটিয়েছে মুম্বইয়ে। পরে ভোপালের বুধওয়ারা এলাকায় ‘নেহা’ নামে থাকতে শুরু করে। নিজেকে রূপান্তরকামী বলে পরিচয় দিয়ে তিনি তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হয়। স্থানীয়দের কাছেও নেহা নামেই পরিচিতি পায়। একাধিকবার বাসস্থান বদল করেও প্রশাসনের নজর এড়াতে সক্ষম হয়।
স্থানীয় দুই যুবকের সাহায্য নিয়েই নেহা নামের আধার কার্ড (Adhar card), রেশন কার্ড (Ration Card), এমনকি ভারতীয় পাসপোর্টও (Indian Passport) তৈরি করে নেয় আব্দুল। সেই পাসপোর্ট ব্যবহার করেই দেশের বাইরে যাতায়াত করেছে বলে প্রমাণও মিলেছে। আব্দুল সত্যিই রূপান্তরকামী কি না তা নিশ্চিত করতে বায়োলজিকাল লিঙ্গ পরীক্ষাও করছে পুলিশ।
মহারাষ্ট্রেও আব্দুল তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাই এখন প্রশ্ন উঠছে, এই ছদ্মপরিচয়ের আড়ালে কোনও বড় চক্র কাজ করছিল কি না। আর কেউ তাঁকে সাহায্য করেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই মুহূর্তে আব্দুল কালামকে ফরেনার্স অ্যাক্টের (Foreigners Act, 1946) অধীনে ৩০ দিনের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার শালিনী দীক্ষিত জানান, 'তিন-চার মাস আগে একটি সূত্র মারফত আমরা জানতে পারি। এরপরই তার পরিচয় যাচাই করা শুরু হয়। সে মাঝে বাংলাদেশেও গিয়েছিল বলে খবর। আমরা বিদেশমন্ত্রকের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি।'
এই ঘটনায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি রীতিমতো নড়েচড়ে বসেছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় শহরে এক বিদেশি ব্যক্তি, ভুয়ো পরিচয়ে নথি বানিয়ে, এমনকি বিদেশ ভ্রমণ করে কীভাবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে গেল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তদন্তকারীদের মতে, এটি কেবল একটি ঘটনা নয়, এর পেছনে সক্রিয় কোনও চক্র থাকতে পারে, যারা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভুয়ো পরিচয়ে ভারতে ঢুকিয়ে দিচ্ছে।
আব্দুলকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হলেও, তার আগেই গোটা চক্রের পর্দা ফাঁস করতে তৎপর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। ফোন কল ও চ্যাটের মাধ্যমে সংযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এভাবেই ভারতের অভ্যন্তরে থাকা আরও কোনও বাংলাদেশি ছদ্মপরিচয়ের নাগরিক বা জালিয়াতি চক্রের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।