পুলিশ জানিয়েছে, মৃত দম্পতি দু’জনেই বেসরকারি সংস্থায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। তাঁদের বাড়ি ছিল তেলঙ্গানায়। প্রায় ন’বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে দীর্ঘদিন একসঙ্গে বসবাসও করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 31 March 2026 20:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেঙ্গালুরুতে পরপর দুই মর্মান্তিক ঘটনায় (Bengaluru Incident) চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একদিকে দম্পতির অস্বাভাবিক মৃত্যু (Bengaluru Couple Death), অন্যদিকে ঋণের চাপে একটি পরিবারের একাধিক সদস্যের ওপর ভয়াবহ আঘাত - দুটি ঘটনাই সামনে আসতেই উদ্বেগ বাড়ছে শহরজুড়ে।
সোমবার শহরের কোঠানুর এলাকায় নিজের বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ভানু চন্দর রেড্ডি নামে এক যুবককে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন। স্বামীর ঝুলন্ত দেহ দেখার পর স্ত্রী শাজিয়া ওই বহুতলেরই সতেরো তলা থেকে ঝাঁপ দেন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত দম্পতি দু’জনেই বেসরকারি সংস্থায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। তাঁদের বাড়ি ছিল তেলঙ্গানায়। প্রায় ন’বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে দীর্ঘদিন একসঙ্গে বসবাসও করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিয়মিত মতবিরোধ ছিল তাঁদের মধ্যে। পাশাপাশি রেড্ডির শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই দুই কারণ মিলিয়েই এমন চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করেছে বেঙ্গালুরু পুলিশ। কী কারণে এই মর্মান্তিক পরিণতি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালানো হচ্ছে।
এরই মধ্যে শহরের উপকণ্ঠে আরও একটি ভয়াবহ ঘটনা সামনে এসেছে। সেখানে একটি পরিবারের চার সদস্যকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ির ভেতরেই গলা কাটা অবস্থায় মৃত পাওয়া যায় আশা (৫৫) ও তাঁর মেয়ে বর্ষিতা (৩২)-কে। একই ঘটনায় গুরুতর জখম হন আশার ছেলে মোহন (২৭) এবং দশ বছরের নাতি ময়ঙ্ক গৌড়া। তাঁদের বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, ঋণের চাপে এই ঘটনা ঘটতে পারে। আর্থিক সমস্যার জেরে পরিবারটি চরম পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুটি ঘটনাই শহরের মানুষের মনে আতঙ্ক ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একদিকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েন, অন্যদিকে আর্থিক চাপ - এই দুই কারণই কীভাবে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তারই যেন করুণ প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে বেঙ্গালুরুর এই ঘটনাগুলি।