ঘটনার দিন ফের স্বামী স্ত্রীর বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সময় মনসাকে বেধরক মারধর করেন শঙ্কর। এখানেই থেমে থাকেননি। ধারাল অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীর মুন্ডু কেটে দেন। তারপর সেই কাটা মুন্ডু একটি কাপড়ে মুড়ে সূর্যনগর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
.jpg.webp)
বেঙ্গালুরুতে হত্যাকাণ্ড
শেষ আপডেট: 7 June 2025 20:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক আছে স্ত্রী মনসার, এই সন্দেহ আগেই ছিল বেঙ্গালুরুর শঙ্করের। সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। নিজের বাড়িতেই মনসাকে তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলেন যুবক। এরপরই তুমুল ঝামেলা শুরু হয়। রাগে স্ত্রীকে খুন করে ধারাল অস্ত্র দিয়ে ধর থেকে মুন্ডু কেটে আলাদা করে দেন। এরপর সেই কাঁটা মুণ্ডু নিয়েই থানায় আত্মসমর্পণ করেন শঙ্কর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৬ বছরের মনসা এবং ২৮ বছরের শঙ্কর কিছুদিন আগেই বেঙ্গালুরুর আনেকাল এলাকায় ভাড়া আসেন। অনেকদিন ধরেই স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে যুবকের সন্দেহ ছিল। তাই গত ৩ জুন রাতে শঙ্কর বাড়ি থেকে বেরোন। স্ত্রীকে বলে যান, পরের দিন সকালে ফিরবেন। কিন্তু সেই রাতেই ফিরে বাড়ি ফিরে আসেন শঙ্কর এবং নিজের ঘরে বিছানায় অন্য পুরুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখতে পান।
এরপরই দুজনের মধ্যে ঝামেলা বাধে। কথার মাঝে মনসা ঘর থেকে বেরিয়ে গেলে কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে আসেন। নতুন করতে অশান্তি শুরু হয়। এরপরের কয়েকদিন তরুণী শঙ্করকে মানসিক হেনস্থা করেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ। প্রতিদিনই কথা কাটাকাটি চলত তাঁদের।
ঘটনার দিন ফের স্বামী স্ত্রীর বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সময় মনসাকে বেধরক মারধর করেন শঙ্কর। এখানেই থেমে থাকেননি। ধারাল অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীর মুন্ডু কেটে দেন। তারপর সেই কাটা মুন্ডু একটি কাপড়ে মুড়ে সূর্যনগর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, থানায় গিয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন শঙ্কর। স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক এবং রোজের হেনস্থার কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি, সেই থেকেই এই চরম পরিণতি। বেঙ্গালুরু গ্রামীণ জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, 'বিগত এক সপ্তাহ ধরেই দম্পতির মধ্যে বিবাদ চলছিল। শুক্রবার রাতে এই ভয়ঙ্কর কাণ্ডটি ঘটেছে। তাঁদের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে।'
ঘটনার খবর পেয়েই সুর্যনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তারা ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত শঙ্করকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হয়েছে। তদন্ত চলছে, মনসার সম্পর্কের বিষয় এবং শঙ্করের মানসিক অবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় ফের প্রশ্ন উঠছে পারিবারিক হিংসা এবং সম্পর্কের ভাঙনের পরিণতি নিয়ে। মানসার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং শঙ্করের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।