তৃতীয় অভিযুক্ত অনুপও ছাত্রীটির উপর অত্যাচার চালায় বলে অভিযোগ। সিসিটিভি ফুটেজে তরুণীকে তাঁর ঘরে ঢুকতে দেখা যাচ্ছে, এই ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 15 July 2025 19:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলেজ পড়ুয়াকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হল ওই কলেজেরই দুই অধ্যাপক ও তাঁদের এক বন্ধুকে। বেঙ্গালুরুর বেসরকারি কলেজের ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হুমকিও (Bengaluru College student rape threat) দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওড়িশায় অধ্যাপকের যৌন হেনস্থার শিকার কলেজ ছাত্রী বিচার না পেয়ে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। সোমবার মৃত্যু হয় তাঁর। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়েছে। এরইমধ্যে বেঙ্গালুরুর এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের নাম নরেন্দ্র, সন্দীপ এবং অনুপ। নরেন্দ্র পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক, সন্দীপ জীববিদ্যার অধ্যাপক এবং তাঁদের বন্ধু অনুপ। তিনজনেই শহরের একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। ওই কলেজেই পড়তেন নির্যাতিতা ছাত্রীটি।
পুলিশে দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, নরেন্দ্র প্রথমে বিভিন্ন অজুহাতে ছাত্রীটির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। অ্যাকাডেমিক নোট (Academic notes) দেওয়ার কথা বলে তিনি নিয়মিত মেসেজ পাঠিয়ে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান। ধীরে ধীরে ছাত্রীটির বিশ্বাস অর্জন করেন। এরপর একদিন তিনি ছাত্রীটিকে বেঙ্গালুরুতে অনুপের বাড়িতে আসতে বলেন। অভিযোগ, সেখানেই নরেন্দ্র ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করেন এবং হুমকি দেন, কাউকে কিছু বললে তার ফল ভয়ঙ্কর হবে।
কয়েকদিন পর সন্দীপ ওই ছাত্রীটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ছাত্রীটি তাঁকে বাধা দেয়। এতে ওই অধ্যাপক হুমকি দেয়, তাঁর কাছে তরুণীর বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও আছে। সেগুলি ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তিনি ছাত্রীটিকে ব্ল্যাকমেল করেন। এরপর তিনিও অনুপের ঘরে ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ।
এরপর তৃতীয় অভিযুক্ত অনুপও ছাত্রীটির উপর অত্যাচার চালায় বলে অভিযোগ। সিসিটিভি ফুটেজে তরুণীকে তাঁর ঘরে ঢুকতে দেখা যাচ্ছে, এই ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।
বেশ কয়েকদিন হয়ে গেলেও তরুণী মুখ বন্ধ রেখেছিলেন। তবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। এরপর তাঁর বাবা-মা বেঙ্গালুরুতে দেখা করতে এলে তাঁদের পুরো বিষয়টি খুলে বলেন। পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়। কর্নাটকের মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ হন তাঁরা। অভিযোগের ভিত্তিতেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।