বেঙ্গালুরুর এক বেসরকারি কলেজে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার জুনিয়র সহপাঠী।
পাঁচ দিন পর অভিযোগ দায়ের, ঘটনায় নেই কোনও সিসিটিভি ফুটেজ, জেনে নিন পুরো ঘটনাপ্রবাহ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 17 October 2025 19:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেঙ্গালুরুর এক বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে সহপাঠীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে যুবকের বিরুদ্ধে। কলেজের বাথরুমে ঢুকিয়ে ধর্ষণ করা হয়, এই ঘটনায় চাঞ্চল্য দেশজুড়ে। দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। ঠিক কী হয়েছিল, কীভাবে এই ঘটনা, জানার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হতে হয় পুলিশকে। কারণ কলেজের 'ওই' তলায় কোনও সিসিটিভি ফুটেজ ছিল না।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার কয়েক ঘণ্টা পরে এই নিয়ে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পর যা যা সামনে এল -
কলেজের ভেতরেই ঘটেছে নৃশংস যৌন নির্যাতনের ঘটনাটি হয়। সপ্তম সেমেস্টারের ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ষষ্ঠ সেমেস্টারের এক যুবকের বিরুদ্ধে। ওই যুবক প্রথমে তাঁর সঙ্গেই পড়তেন কিন্তু এক সেমেস্টার গ্যাপ হয়ে যাওয়ায় নির্যাতিতা এগিয়ে যান। তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রয়েছে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে।
ঘটনাটি ১০ অক্টোবরের তবে অভিযোগ দায়ের হয় পাঁচ দিন পরে অর্থাৎ ১৫ অক্টোবর। নির্যাতিতা বাবা-মাকে সবটা জানানোর পর অভয় পেয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই দিন?
পুলিশ জানিয়েছে, দুপুরের লাঞ্চ ব্রেকে কথা বলার নাম করে অভিযুক্ত জীবন গৌড়া নির্যাতিতাকে সপ্তম তলার আর্কিটেকচার ব্লকের কাছে ডাকেন। সেখানেই তিনি জোর করে মেয়েটিকে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করেন। প্রতিরোধ করলে অভিযুক্ত তাঁকে ষষ্ঠ তলায় টেনে নিয়ে যান এবং পুরুষদের টয়লেটে ধর্ষণ করেন। মেয়েটির ফোন বেজে উঠলে জীবন সেটি কেড়ে নিয়ে কেটে দেন।
‘পিল লাগবে?’ — অভিযুক্তের ভয়ঙ্কর প্রশ্ন
ধর্ষণের পরও মেয়েটির প্রতি ভয়ঙ্কর আচরণ করেন অভিযুক্ত। তদন্তকারীদের মতে, ঘটনার পর তিনি নির্যাতিতাকে ফোন করে জানতে চান, “তোমার কি পিল দরকার?”- মেয়েটি সঙ্গে সঙ্গে কল কেটে দেন।
৫ দিন পর সাহস করে বিষয়টি তিনি জানান বাবা-মাকে
তীব্র মানসিক আঘাতে প্রথমে চুপ থাকলে পরে বন্ধুদের উৎসাহে মেয়েটি বাবা-মাকে সব জানান। তাঁদের সহায়তায় ১৫ অক্টোবর হনুমন্তনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযুক্ত-নির্যাতিতা একে অপরকে চিনতেন
পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতা সপ্তম সেমেস্টারের ছাত্রী আর অভিযুক্ত জীবন গৌড়া পঞ্চম সেমেস্টারের। তাঁরা একই কলেজে পড়তেন এবং পরস্পরকে চিনতেন খুব স্বাভাবিক ভাবে।
সিসিটিভির অভাব তদন্তে বাধা
ঘটনার তদন্ত শুরু হলেও পুলিশ জানাচ্ছে, অপরাধস্থল অর্থাৎ ষষ্ঠ তলায় কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না। ফলে ঘটনার প্রত্যক্ষ ভিডিওপ্রমাণ নেই। তবে ফরেনসিক টেস্ট শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতর
ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে দোষ পাল্টা দোষ দেওয়ার পালা। বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে, কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা কার্যত শূন্য।