সোনাদানায় মোড়া ‘চিতোরগড়ের বাপ্পি লাহিড়ী’ (Bappi Lahiri) নামে পরিচিত ফল ব্যবসায়ী কানহাইয়ালাল খটিক (Kanhailal Khatik) দাবি করেছেন, তাঁকে পাঁচ কোটি টাকা তোলার হুমকি দিয়েছে রোহিত গোদারা গ্যাং (Rohit Godara)।

চিতোরগড়ের ‘বাপ্পি লাহিড়ী
শেষ আপডেট: 28 November 2025 13:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজস্থানের চিতোরগড়ে (Rajasthan News) ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে গ্যাংস্টারদের দৌরাত্ম্য। সোনাদানায় মোড়া ‘চিতোরগড়ের বাপ্পি লাহিড়ী’ (Bappi Lahiri) নামে পরিচিত ফল ব্যবসায়ী কানহাইয়ালাল খটিক (Kanhailal Khatik) দাবি করেছেন, তাঁকে পাঁচ কোটি টাকা তোলার হুমকি দিয়েছে রোহিত গোদারা গ্যাং (Rohit Godara)।
পুলিশ সূত্রে খবর, দু' দিন আগে একটি অজানা নম্বর থেকে প্রথমে তাঁর ফোনে মিসড কল আসে। পরে একই নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ কল। তা ধরেননি খাটিক। এর পরই তাঁর মোবাইলে পাঠানো হয় একটি ভয়েস রেকর্ডিং— যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়, ৫ কোটি টাকা না দিলে তিনি “সোনাদানা পরার মতো অবস্থায়ও থাকবেন না”।
খাটিককে আরও বলা হয়, বিষয়টি যাতে বাইরে না যায়, চুপচাপ টাকা মিটিয়ে দিতে হবে। পরে আবারও ফোন আসে একই দাবি নিয়ে। শেষে সিটি কোতওয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ জানান তিনি।
সবজি বিক্রেতা থেকে ‘গোল্ডম্যান’— কে এই কানহাইয়ালাল খটিক?
বাপ্পি লাহিড়ীকে আপামর ভারতবাসী চেনেন দু'টি কারণে। প্রথমত, তাঁর দুর্দান্ত সব গান, আর দ্বিতীয় কারণ হল তাঁর সোনার গয়নার প্রতি ভালবাসা। রাজস্থানেও এমন একজন 'বাপ্পি লাহিড়ী' রয়েছেন। চিতোরগড়ের বাসিন্দা তিনি। নাম কানাইলাল খটিক, পেশায় একজন ফল ব্যবসায়ী। তিনি সম্প্রতি দাবি করেছেন গ্যাংস্টার রোহিত গোদারার সঙ্গে যুক্ত লোকের কাছ থেকে টাকা চেয়ে হুমকি পেয়েছেন তিনি।
পঞ্চাশোর্ধ্ব খটিক একসময় ঠেলাগাড়িতে সবজি বিক্রি করতেন। পরে ফলের ব্যবসায় হাত পাকিয়ে ভাগ্য বদলান। আপেল বেচাকেনা থেকেই তৈরি হয় তাঁর অর্থভাণ্ডার। সঙ্গে বাড়তে থাকে সোনার প্রতি টান। বর্তমানে প্রায় ৩.৫ কেজি সোনার গয়না পরে ঘোরেন তিনি। এই কারণেই চিতোরগড়ে তাঁকে ‘গোল্ডম্যান’, বা ‘বাপ্পি লাহিড়ী’ বলে ডাকাডাকি করেন লোকজন।
রোহিত গোদারা— কে এই আতঙ্কের নাম?
বিকানেরের লুনাকরন এলাকার বাসিন্দা রোহিত গোদারা বর্তমানে কানাডায় লুকিয়ে রয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। দেশের বিভিন্ন থানায় ৩২টিরও বেশি মামলা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
রাজস্থানে ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে তোলাবাজির নেটওয়ার্ক চালাতেন গোদারা। পঞ্জাবি র্যাপার সিধু মুসেওয়ালার হত্যাকাণ্ডেও তাঁর নাম জড়ায়। ২০২২ সালের ১৩ জুন ভুয়ো পাসপোর্টে ‘পবন কুমার’ পরিচয়ে দিল্লি থেকে দুবাই পালান তিনি। ইন্টারপোলের রেড নোটিসও জারি হয়েছে এই গ্যাংস্টারের বিরুদ্ধে। সিকার জেলার কুখ্যাত গ্যাংস্টার রাজু থেহাট খুনের মামলারও প্রধান অভিযুক্ত এই গোদারা।