ছবির রঙিন পোশাক, মেটালিক স্টেজ, আলো— সবই যেন এক বর্ণিল ডিস্কো-উৎসব। আবার কোথাও কোথাও ‘স্যাটারডে নাইট ফিভার’-এর জন ট্রাভোল্টার হাঁটার স্টাইল, ‘ওয়েস্ট সাইড স্টোরি’-র ক্লিক-ড্যান্স, ছোট ছোট অনুপ্রেরণার ঝলকও স্পষ্ট।

বাপ্পি লাহিড়ী ও মিঠুন চক্রবর্তী
শেষ আপডেট: 27 November 2025 18:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: “I am a disco dancer!” বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে তরতাজা মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty), রুপোলি প্যান্ট, হাফ-খোলা শার্ট, চারপাশে ঝলমলে আলো। এত বছর পরেও যদি কোনও দৃশ্য এমন স্পষ্ট হয়, তবে সে ছবি যে যুগের হৃদয়ে দাগ কেটেছিল, তা বলাই যায়।
১৯৮২ সালে বাব্বর সুভাষের ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ (Disco Dancer) ছিল আটের দশকের বলিউডের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়। সে সময় সিনেমার সাফল্য নির্ধারিত হত গল্পে কতটা ‘মশলা’, কতটা সুর আর কতটা দৃশ্যাবলী রয়েছে তা দিয়ে। সেই মানদণ্ডে ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ নিখুঁত— এক রাগ-দ্বেষে মোড়ানো র্যাগস-টু-রিচেস কাহিনি, যার কেন্দ্রে ছিল শুধু ডিস্কো।
আর এই ডিস্কোর প্রাণ ছিলেন এক জন, বাপ্পি লাহিড়ী (Bappi Lahiri Birthday)। ছবির অর্ধেক জুড়েই গান, আর প্রতিটি গানের স্পন্দন জন্মেছে তাঁর সুরে। তাঁকে ছাড়া ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ ভাবাই যায় না। তাঁর জন্মদিনের এই ছবির কথা ফের স্মরণে আসাই স্বাভাবিক।
রাস্তায় গান করা জিমি থেকে দেশের ‘ডিস্কো কিং’
জিমি, মিঠুন চরিত্রের নাম। যে এক জন রাস্তার গায়ক। শৈশবে মায়ের সঙ্গে এলাকা থেকে বিতাড়িত হওয়ার যন্ত্রণা তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। একদিন হঠাৎই তাঁকে আবিষ্কার করেন ওম পুরী অভিনীত এক নামি ম্যানেজার। সেখান থেকেই শুরু তার দুঃস্বপ্ন ভরা যাত্রা থেকে সুপারস্টার হওয়া।
যে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি জিমির জীবন নষ্ট করেছিল, তার ছেলেকে সরিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় ডিস্কো আইকন হয়ে ওঠে জিমি। কিন্তু সাফল্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে শত্রু, ষড়যন্ত্র, এমনকি প্রাণনাশের চেষ্টাও। আর সব কিছুর মাঝেই জিমিকে টিকিয়ে রাখে সঙ্গীতের প্রতি তাঁর অটল ভালবাসা।
হলিউডের ছায়া আর বলিউডের ঝলক
ছবির রঙিন পোশাক, মেটালিক স্টেজ, আলো— সবই যেন এক বর্ণিল ডিস্কো-উৎসব। আবার কোথাও কোথাও ‘স্যাটারডে নাইট ফিভার’-এর জন ট্রাভোল্টার হাঁটার স্টাইল, ‘ওয়েস্ট সাইড স্টোরি’-র ক্লিক-ড্যান্স, ছোট ছোট অনুপ্রেরণার ঝলকও স্পষ্ট। বলিউডের চিরন্তন জনপ্রিয় ফর্মুলা, দরিদ্র থেকে তারকা হওয়ার লড়াই এই ছবিকে আরও গ্রহণযোগ্য করেছে।
এক এক করে কিংবদন্তী গানগুলোর জন্ম
ছবির শুরুতে রাজেশ খান্নার ঠোঁটে ‘না গোরোঁ কি, না কালোঁ কি’। একমাত্র অ-ডিস্কো গান হলেও ছবির ভাববস্তুর ভিত্তি গড়ে দিয়ে জানিয়ে দেয়, সঙ্গীত সবার জন্য। এরপর ‘আউভা আউভা’, উষা উত্থুপ আর বাপ্পির কণ্ঠে একেবারে খাঁটি ডিস্কো। ‘আই অ্যাম আ ডিস্কো ড্যান্সার’— মিঠুনের নাচ, শক্তি, মঞ্চজয়ী উপস্থিতি, সব মিলিয়ে ছবির হার্টবিট। ‘জিমি জিমি আজা আজা’,পার্থিব খান গাওয়া এই গান এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে পরে বিদেশেও কভার হয়। এমআইএ-র গানেও ব্যবহৃত হয় সেটি। আর ‘ইয়াদ আ রাহা হ্যায়’ হল বাপ্পি লাহিড়ীর কণ্ঠে ডিস্কোর এক নিখুঁত ছাপ।
ভারতে তো বটেই, অপ্রত্যাশিতভাবে সোভিয়েত রাশিয়াতেও এই ছবি হয়েছিল ‘ন্যাশনাল সেনসেশন’। লক্ষ লোক হলে গিয়ে দেখেছিল। মিঠুনের নাচ, বাপ্পির বিট— দু’জনেই রাশিয়ার তরুণদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। গানগুলি অনুবাদ হয়, নাচ নকল হয়, বই লেখা হয়। আর ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ হয়ে ওঠে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন।