বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কে (India Bangladesh Relation) কি অবশেষে উষ্ণতার ছোঁয়া লাগছে? বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর এই প্রথম অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ভারত সফর করলেন বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা DGFI-এর প্রধান (Bangladeshs Military Intelligence Chief) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরী (Mohammad Kaiser Rashid Chowdhury)। এই সফরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক মহলে এখন জোর গুঞ্জন।

শেষ আপডেট: 9 March 2026 20:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কে (India Bangladesh Relation) কি অবশেষে উষ্ণতার ছোঁয়া লাগছে? বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর এই প্রথম অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ভারত সফর করলেন বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা DGFI-এর প্রধান (Bangladeshs Military Intelligence Chief) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরী (Mohammad Kaiser Rashid Chowdhury)। এই সফরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক মহলে এখন জোর গুঞ্জন।
রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কী আলোচনা হল?
সূত্রের খবর, গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে ভারতের বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা RAW (র)-এর প্রধান পরাগ জৈন এবং ভারতের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর এস রমনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন মেজর জেনারেল চৌধুরী। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এই প্রথম দুই দেশের গোয়েন্দা প্রধানরা মুখোমুখি বসলেন।
বৈঠকের প্রধান দুই দিক:
নিরাপত্তা নিশ্চয়তা: কোনও দেশের মাটি ব্যবহার করে যেন অন্য দেশের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে দুই পক্ষই একমত হয়েছে।
চ্যানেল পুনর্গঠন: গত ১৮ মাস ধরে বন্ধ থাকা দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের পথগুলো পুনরায় সচল করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সম্পর্ক মেরামতে নতুন সরকারের বার্তা?
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারিক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই সেনাসদস্য ও গোয়েন্দা বিভাগে বড় রদবদল করা হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব পান নতুন DGFI প্রধান। দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর এই দিল্লি সফরকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি 'স্ট্র্যাটেজিক সিগন্যাল' হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দিল্লির নজর যেদিকে
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা দিল্লির জন্য সবসময়ই অগ্রাধিকার। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেখানকার অস্থিরতা ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ফলে গোয়েন্দা পর্যায়ে এই সমন্বয় দিল্লির উদ্বেগ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
বরফ গলার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও পথটা খুব একটা মসৃণ নয়। দুই দেশের টেবিলে এখন তিনটি বড় ইস্যু। প্রথমত, শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে রয়েছেন এবং বাংলাদেশে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এটি একটি বড় কূটনৈতিক অস্বস্তি।
দুই, গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি। ১৯৯৬ সালের এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে অগ্নিপরীক্ষা।
সর্বোপরি বন্দি প্রত্যর্পণ। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের আসামিদের হস্তান্তরের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।
২০২৫ সালের শেষে জয়শঙ্করের ঢাকা সফর এবং তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি সম্পর্কের মোড় ঘোরার ইঙ্গিত দিয়েছিল। এবার গোয়েন্দা প্রধানের এই 'গোপন' সফর কি দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বের ভিত্তি গড়বে? উত্তর দেবে সময়।