আদালত আরও বলে, ভুক্তভোগী চাইলে সাক্ষী ডেকেও প্রমাণ করতে পারতেন, কিন্তু তা তিনি করেননি। ফলে ২ কোটি টাকার মতো বিশাল ক্ষতির প্রমাণ মেলেনি।

প্রতীকী ছবি (এআই নির্মিত)
শেষ আপডেট: 9 February 2026 13:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির পাঁচতারা হোটেলের সেলুনে ‘খারাপ হেয়ারকাট’-এর অভিযোগে (bad haircut case) শুরু হয়েছিল এক দীর্ঘ আইনি লড়াই। সাত বছর ধরে চলা সেই মামলার ইতি ঘটাল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court India)। মডেল আশনা রায়ের দায়ের করা মামলায় ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আর্জি বাতিল করে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, উপযুক্ত প্রমাণ না থাকায় এত বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায় না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগের দেওয়া ২৫ লক্ষ টাকাই হবে চূড়ান্ত ক্ষতিপূরণ।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল। সেদিন দিল্লির আইটিসি মৌর্য হোটেলের সেলুনে চুল কাটাতে গিয়েছিলেন আশনা রায়। তাঁর দাবি, প্রত্যাশামতো পরিষেবা না-পাওয়ার ফলে চুল নষ্ট হয়ে যায়। এর জেরেই আত্মবিশ্বাস ও পেশাগত জীবনে বাজে প্রভাব পড়ে। পরে তিনি ন্যাশনাল কনজিউমার ডিসপিউটস রেড্রেসাল কমিশন (এনসিডিআরসি)-এর দ্বারস্থ হন।
২০২১ সালে এনসিডিআরসি পাঁচতারা হোটেলকে দোষী সাব্যস্ত করে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২ কোটি টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। যদিও ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট পরিষেবায় ত্রুটির অভিযোগে হস্তক্ষেপ না করলেও ক্ষতিপূরণের পরিমাণ পুনর্বিবেচনার জন্য মামলা ফেরত পাঠায় কমিশনে।
ফলে আশনা তাঁর দাবি বাড়িয়ে ৫.২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চান এবং কয়েকটি ইমেল, সার্টিফিকেট ও অন্যান্য নথির ফটোকপি কমিশনের সামনে পেশ করেন। তিনি দাবি করেন, খারাপ চুল কাটার কারণে তাঁর মডেলিং ও অভিনয়ের সুযোগ নষ্ট হয়েছে।
কিন্তু এনসিডিআরসি ফের ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করায় আইটিসি মৌর্য আবার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে।
শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়,
সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট বক্তব্য, “শুধুমাত্র অনুমান বা ধারণার ভিত্তিতে কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায় না।”
আদালত আরও বলে, ভুক্তভোগী চাইলে সাক্ষী ডেকেও প্রমাণ করতে পারতেন, কিন্তু তা তিনি করেননি। ফলে ২ কোটি টাকার মতো বিশাল ক্ষতির প্রমাণ মেলেনি। অবশেষে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ২৫ লক্ষ টাকা, যা আগেই ভুক্তভোগীকে দেওয়া হয়েছিল- সেটাই চূড়ান্ত ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিষেবায় ত্রুটি ছিল, এই সিদ্ধান্তে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি।