পুরসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, রামপথের ধার থেকে মাংসের দোকান সরানো হয়েছে, এমনকী ফৈজাবাদ এলাকাতেও। তবে মদের দোকানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনের অনুমতি প্রয়োজন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 January 2026 12:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রামমন্দিরকে (Ram Temple) কেন্দ্র করে আরও কড়া সিদ্ধান্ত নিল অযোধ্যা প্রশাসন (Ayodhya Ram Temple)। সম্প্রতি ঘোষণা করা হয়েছে, রামমন্দিরের চারপাশের ১৫ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে নন-ভেজ বা আমিষ খাবার (Non-Veg Food) সরবরাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছে অনলাইন ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলিও।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘পঞ্চকোশী পরিক্রমা’ এলাকার মধ্যে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছিল যে, অনলাইন মাধ্যমে পর্যটকদের কাছে নন-ভেজ খাবার (Non-Veg Food via Online) পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগ ছিল, অযোধ্যার কিছু হোটেল ও হোমস্টে-তে অতিথিদের নন-ভেজ খাবার এবং মদ পরিবেশন করা হচ্ছে। এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, চলতি বছরের মে মাসে অযোধ্যা পুরসভা রামপথের ১৪ কিলোমিটার অংশে মাংস ও মদ বিক্রি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই পথ অযোধ্যা ও ফৈজাবাদকে যুক্ত করে। যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ন’মাসে সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। এখনও ওই এলাকায় দুই ডজনের বেশি মদের দোকান চালু রয়েছে।
পুরসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, রামপথের ধার থেকে মাংসের দোকান সরানো হয়েছে, এমনকী ফৈজাবাদ এলাকাতেও। তবে মদের দোকানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনের অনুমতি প্রয়োজন।
এই বিষয়ে সহকারী খাদ্য কমিশনার মণিক চন্দ্র সিংহ জানান, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অনলাইনে নন-ভেজ খাবার পৌঁছে দেওয়ার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। তাঁর কথায়, “অভিযোগ পাওয়ার পরেই অনলাইন নন-ভেজ ফুড ডেলিভারির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। হোটেল, দোকানদার এবং ডেলিভারি সংস্থাগুলিকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত নজরে রাখা হবে।”
প্রশাসনের ইঙ্গিত, রামমন্দিরকে ঘিরে খাদ্যাভ্যাস ও আচরণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আগামী দিনে আরও কড়া হতে পারে।
এদিকে সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, রামমন্দির নির্মাণের জন্য জনসাধারণের কাছ থেকে সংগ্রহ হয়েছে ৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি অনুদান। এই প্রকল্পের মোট আনুমানিক ব্যয় প্রায় ১,৮০০ কোটি টাকা। তার মধ্যে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার বিলিং ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজের আর্থিক হিসেব চূড়ান্ত হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
২০২২ সালে তহবিল সংগ্রহ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছিল। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা উদার হাতে অনুদান দিয়েছেন, যা এই প্রকল্পকে বাস্তব রূপ দিতে বড় ভূমিকা নিয়েছে।