স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে যখনই পাঙ্গা নিতে গিয়েছে, তখনই নাকখত দিয়ে উদ্ধার পেতে হয়েছে ইসলামবাদের সরকারকে।

চিন ও রাশিয়ার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে পাকিস্তানে ফরোয়ার্ড লাইনে পিছন থেকে এই খেলার কলকাঠি নাড়ছে আমেরিকাই।
শেষ আপডেট: 17 September 2025 10:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উপলক্ষ যাই হোক, পাকিস্তানের একমাত্র লক্ষ্য হল, ভারতকে কীভাবে কাবু করা যায়। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে যখনই পাঙ্গা নিতে গিয়েছে, তখনই নাকখত দিয়ে উদ্ধার পেতে হয়েছে ইসলামবাদের সরকারকে। তাই এখন মওকা বুঝে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার আগে জোহুজুরি করার পরিকল্পনা ফেঁদেছে পাকিস্তান। সেই লক্ষ্যে ভারতকে চাপে ফেলতে মুসলিম দুনিয়াকে তুরুপের তাস হিসেবে খেলতে চাইছে তারা। অতি অবশ্যই চিন ও রাশিয়ার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে পাকিস্তানে ফরোয়ার্ড লাইনে পিছন থেকে এই খেলার কলকাঠি নাড়ছে আমেরিকাই।
দিন কয়েক আগে হামাস জঙ্গিনেতাদের নিকেশ করতে কাতারের রাজধানী দোহায় হামলা চালায় ইজরায়েল। আমেরিকা এই ঘটনা থেকে সম্পূর্ণ হাত গুটিয়ে নিলেও অধিকাংশ সূত্র হলফ করে জানিয়েছে, আমেরিকার অনুমতি নিয়ে তবেই দোহায় ইজরায়েলি বিমানবাহিনী আক্রমণ চালিয়েছিল। কাতারে ইজরায়েলি হানার প্রতিবাদে সোমবার বিশ্বের ৪০টিরও বেশি আরব ও ইসলামি রাষ্ট্র একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছিল। সেখানে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল- জঙ্গি নিধনের নামে ইজরায়েল যেভাবে মুসলিম দুনিয়াকে খতম করে দিতে উঠেপড়ে লেগেছে, তার যোগ্য জবাব দেওয়া।
এর জন্য সংগঠিত একটি জবাব দিতে চায় মুসলিম দেশগুলি। সেখানে ইজরায়েলি হামলার নিন্দা ও সংযমী থাকার আর্জি প্রথামাফিক জানানো হয়েছে। কিন্তু, পাশাপাশি পাকিস্তানের মস্তিষ্কপ্রসূত যে ভাবনাটি সবথেকে জোরালভাবে সকলে সমর্থন করেছে, সেটি হল নেটো-স্টাইলের একটি সামরিক বাহিনী গঠনের প্রস্তাব। প্রসঙ্গত, এই সম্মেলনে হাজির ছিল পাকিস্তান ছাড়াও তুরস্ক।
একমাত্র পরমাণু শক্তিধর মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান। এবং নেটো সদস্য তুরস্ক, যারা ভারতের বিরুদ্ধে কিছুদিন আগেই অস্ত্র ও সেনা দিয়ে চারদিনের মিনি যুদ্ধে ইসলামাবাদকে মদত করেছিল। তারা মিলে যদি আরব-ইসলামি নেটো গঠন করে, তাহলে খুব স্বভাবতই তা ভারতের পক্ষে মঙ্গলজনক হবে না। দোহা সম্মেলনে পাকিস্তান এই কথাটাই বারবার জোর দিয়ে বলেছে যে, বাঁচতে চাইলে এই মুহূর্তে আরব-ইসলামি টাস্ক ফোর্স গঠন করতে হবে।
ইজরায়েলকে বারবার ইসলামি দেশের উপর হামলা চালাতে দেওয়া যায় না। ওরা সাধারণ মুসলিম মানুষকে নির্দয় ও নির্বিচারে খুন করে চলেছে। পাক বিদেশমন্ত্রী ইশহাক দার জোরাল কণ্ঠে একথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও। পাকিস্তানের এই অতি সক্রিয় চালচলন ইজরায়েলের বাইরেও মানে রাখে। আরব-ইসলামি নেটো বন্ধনের পিছনে ইসলামাবাদের অন্য উদ্দেশ্য আছে। দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে কাশ্মীরকে আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে ফেলার চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে পাকিস্তান।
তাই এবার আনুমানিক ১৭০টি পরমাণু অস্ত্রধারী পাকিস্তান মুসলিম দেশগুলিকে এ ব্যাপারে সামরিক শক্তিতে ঐক্যবদ্ধ করতে উঠেপড়ে নেমেছে। পাক বিদেশমন্ত্রী দার ১৮০০ কোটি মুসলিমকে এই সম্মেলনের চোখকে একটি পরিষ্কার দিশা দিতে চাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে দেন। তাঁর মতের সমর্থন করেন শরিফ। তিনি সৌদির অভিষিক্ত যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে তাঁরা রাষ্ট্রসঙ্ঘের সমর্থনও জোগাড় করে নিতে পারবেন। মার্কিন নেতৃত্বাধীন নেটোভুক্ত দেশগুলির একটি তুরস্কও ইজরায়েল বিরোধী প্রচার গড়ে তুলতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। ফলে সব মিলিয়ে আরব নেটো রূপ পেলে তা ভারতের পক্ষে মোটেও সুখবর হবে না। এই পরিস্থিতিতে গোটা বিষয়টির উপর নজর রাখছে নয়াদিল্লি।