মুনিরত্নার বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতি মামলার দায় রয়েছে। যার তদন্তের জন্য কর্নাটক বিধানসভার স্পিকার সম্প্রতি অনুমতি দিয়েছেন।
.jpeg.webp)
বিজেপি বিধায়ক
শেষ আপডেট: 21 May 2025 19:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল কর্নাটকের বিজেপি বিধায়ক মুনিরত্নার বিরুদ্ধে। এবার গণধর্ষণ, মুখে মূত্রত্যাগ এবং শরীরে ক্ষতিকর পদার্থ ইঞ্জেক্ট করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনলেন এক ৪০ বছর বয়সি বিজেপি কর্মী। বেঙ্গালুরুর আরএমসি ইয়ার্ড থানায় একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে।
অভিযোগকারী জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের ১১ জুন, মুনিরত্নার মথিকেরে অফিসে তাঁকে নিয়ে যান বিধায়ক ঘনিষ্ঠ কয়েকজন। ওই মহিলার দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে নাকি মিথ্যে মামলাগুলি প্রত্যাহার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তাঁরা। সেই প্রতিশ্রুতির প্রলোভনে পড়েই তিনি সেখানে যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, অফিসে পৌঁছতেই ওই বিধায়ক ও তাঁর দুই সঙ্গী মিলে মহিলাকে বিবস্ত্র করেন এবং তাঁর সন্তানকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এরপর মুনিরত্না ওই দুই ব্যক্তিকে তাঁকে ধর্ষণের নির্দেশ দেন। আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, ধর্ষণের পর বিধায়ক মুনিরত্না তাঁর মুখের ওপর মূত্রত্যাগ করেন।
একপর্যায়ে, এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি সেখানে এসে একটি সাদা বাক্সে করে একটি সিরিঞ্জ এনে দেন মুনিরত্নার হাতে। বিধায়ক সেই সিরিঞ্জ দিয়ে মহিলার শরীরে একটি অজানা পদার্থ ইঞ্জেক্ট করেন বলে অভিযোগ।
ওই মহিলা জানান, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর শরীরে একটি দুরারোগ্য ভাইরাস রয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, সেই ভাইরাস শরীরে ঢুকেছে ওই ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে।
অবশেষে, ২০২৪ সালের ১৯ মে, মানসিক অবসাদে তিনি অতিরিক্ত ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। যদিও নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর। ওই মহিলা দাবি করেছেন, মুনিরত্না নাকি রাজনৈতিক সক্রিয়তার জন্য তাঁকে পছন্দ করতেন না এবং বিভিন্ন পুলিশ স্টেশনে— যেমন পিন্যা ও আরএমসি ইয়ার্ডে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করতে অন্যদের প্রভাবিত করেছিলেন।
এই ঘটনায় মুনিরত্নার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ডি (গণধর্ষণ), ২৭০ (সংক্রামক রোগ ছড়ানোর মতো কাজ), ৩২৩ (ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত প্রদান), ৩৫৪ (নারীর শালীনতা লঙ্ঘন), ৫০৪, ৫০৬, ৫০৯ ও ৩৪ (যৌথ অভিপ্রায়)-এ মামলা রুজু হয়েছে। মামলায় মুনিরত্না ছাড়াও আরও তিনজন সহযোগীর নাম রয়েছে এবং এক অভিযুক্তর এখনও পরিচয় পাওয়া যায়নি।
এই অভিযোগ ছাড়াও, মুনিরত্নার বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতি মামলার দায় রয়েছে। যার তদন্তের জন্য কর্নাটক বিধানসভার স্পিকার সম্প্রতি অনুমতি দিয়েছেন। অভিযোগ, একটি চুক্তির বিনিময়ে তিনি ৩৬ লক্ষ টাকা ঘুঁষ দাবি করেছিলেন এবং ২০ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেনও। বেঙ্গালুরুর মল্লেশ্বরম এলাকার ব্যালিকাভাল থানায় এবিষয়ে মামলাটি নথিভুক্ত হয়।
তথ্য বলছে, এটাই প্রথম নয়। এর আগেও মুনিরত্নার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আরেকজন ৪০ বছর বয়সি মহিলা অভিযোগ করেছিলেন, ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে একাধিকবার তাঁকে ধর্ষণ করেন মুনিরত্না। সেই মামলায়ও বিধায়কের বিরুদ্ধে একাধিক ষড়যন্ত্র এবং এইচআইভি আক্রান্ত মহিলাদের ব্যবহার করে রাজনীতিকদের ‘হানি ট্র্যাপে’ ফাঁসানোর মতো অভিযোগ ছিল। সেই মামলার এফআইআর ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪-এ, কাগগলিপুরা থানায় নথিভুক্ত হয়, যেখানে আরও ছয়জন অভিযুক্তের নাম ছিল।
এই পরপর গুরুতর অভিযোগ ও মামলা রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। প্রশাসনের শীর্ষ মহল এবং তদন্তকারী সংস্থা এখন কঠোর নজরে রেখেছে মুনিরত্না ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের কর্মকাণ্ডকে। এমন ব্যক্তির রাজনৈতিক দলে অবস্থান নিয়ে এবার উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন।