এই ঘটনার পর থেকেই রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। মৃতদের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সময় কোনও উদ্ধারকারী দল, ফায়ার ব্রিগেড বা চিকিৎসা পরিষেবা সময়মতো পৌঁছয়নি।

ঘটনাস্থলের ছবি (সংগৃহীত)
শেষ আপডেট: 29 June 2025 13:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরীর রথযাত্রা ঘিরে চরম উত্তেজনা। ভোরবেলা গুণ্ডিচা মন্দিরের সামনে রথ দর্শনের ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল অন্তত তিনজনের। আহত হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যাচ্ছে, দুটি আচমকা ঢুকে পড়ায় হুড়োহুড়ি শুরু হয়। পালাতে গিয়ে চাপা পড়ে যান অনেকে। মৃত্যু হয় তিনজনের।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানাচ্ছে, রবিবার ভোররাতে দেড় হাজারেরও বেশি ভক্ত জড়ো হয়েছিলেন গুণ্ডিচা মন্দির চত্বরে। রথের মূর্তি দেখার জন্য। ঠিক তখনই আচমকা ঢুকে পড়ে দু’টি কাঠবোঝাই ট্রাক। এই ট্রাকে ছিল ‘চারামালা কাঠ’, যা রথযাত্রার অত্যন্ত পবিত্র ও প্রয়োজনীয় উপকরণ। হঠাৎ ট্রাক ঢুকে পড়তেই শুরু হয় হুড়োহুড়ি। চাপে অনেকে পড়ে যান, পদপিষ্ট হন, কেউ কেউ সংজ্ঞা হারান।
বলিপট্টনার প্রভাতী দাস (৫২), গদাভাঙ্গার বাসন্তী সাহু (৪২) ও ভুবনেশ্বরের বাসিন্দা প্রেমকান্ত মহান্তি (৭৮)র মৃত্যু হয়। সকলকে উদ্ধার করে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে। গুরুতর আহত একাধিক।
এই ঘটনার পর থেকেই রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। মৃতদের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সময় কোনও উদ্ধারকারী দল, ফায়ার ব্রিগেড বা চিকিৎসা পরিষেবা সময়মতো পৌঁছয়নি। প্রভাতী দাসের স্বামী বলেন, 'ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কেউ এল না। কেউ সাহায্য করতে আসেনি। আমার স্ত্রী যদি সময়মতো চিকিৎসা পেত, হয়তো বাঁচানো যেত।'
একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, 'ট্রাক ঢুকতেই ভিড় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। মানুষ একে-অপরের উপর পড়ে যাচ্ছিল। অনেকেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। ইনফরমেশন সেন্টারে গিয়ে সাহায্য চাইলে তারা কিছু করতে পারেনি। অ্যাম্বুল্যান্স ছিল অনেকটা দূরে।'
পুলিশ জানিয়েছে, কীভাবে এই দুর্ঘটনা, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, 'দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
একজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, এবার রথযাত্রায় ভিআইপিদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ রাখা হয়েছিল। সাধারণ মানুষকে অন্যদিক দিয়ে বেরোতে বলা হয়। অনেকেই সেই পথ না মেনে মূল গেট দিয়ে বেরোতে গেলে ব্যাপক ভিড় হয়। এই বিশৃঙ্খলাই মূলত দুর্ঘটনার কারণ। এনিয়ে রাজ্যের আইনমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ হরিচন্দন বলেন, 'এই ঘটনা মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
উল্লেখ্য, পুরীর বার্ষিক রথযাত্রা উৎসবে লক্ষ লক্ষ ভক্ত অংশ নেন। শুক্রবার শুরু হয়েছে উৎসব। রথে করে জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার বিগ্রহ গুণ্ডিচা মন্দিরে আনা হয়। সেখানেই তাঁরা থাকবেন এক সপ্তাহ। এরপর ১ জুলাই ফিরতি রথে আবার ফিরে যাবেন মন্দিরে।
তার মাঝেই এমন ঘটনায় প্রশ্নের মুখে প্রশাসন।