
শেষ আপডেট: 8 November 2023 21:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শত চেষ্টাতেও কিছুতেই বাগে আনা যাচ্ছে না রাজধানীর বায়ুদূষণ। বাতাসের গুণগত মান এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের গ্রাফ ক্রমেই নিম্নমুখী। ধোঁয়াশায় বিপর্যস্ত দিল্লিবাসী। দিন দিন আরও ধূসর হচ্ছে সে ছবি। শীতের মুখেই এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ৪০০-র গণ্ডি ছুঁয়েছে। সূর্যের মুখ আর দেখতে পাচ্ছেন না দিল্লিবাসী। ধোঁয়াশা কালো কম্বল যেন আষ্টেপৃষ্টে মুড়ে ফেলেছে রাজধানী শহরকে। এই দূষণের মেঘ সরানোর জন্য বৃষ্টি নামানোর পরিকল্পনা করছেন বিজ্ঞানীরা। বর্ষাকাল বিদায় নিয়েছে। তাই এখন বৃষ্টি নামাতে হলে কৃত্রিম মেঘ তৈরি করতে হবে। আইআইটি কানপুরের গবেষকরা এই কৃত্রিম মেঘ থেকেই অকাল বৃষ্টি নামাবেন দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকাগুলিতে।
কৃত্রিম বৃষ্টি কী?
শুনতে অদ্ভুত লাগলেও সত্যি। কৃত্রিম মেঘ থেকে বৃষ্টি নামানোর গবেষণায় বড় সাফল্য পেয়েছেন আইআইটি কানপুরের গবেষকরা। সে জন্য প্রায় বছর ছয়েক সময় লেগেছে তাঁদের।
দিল্লির বাতাস বরাবরই দূষিত। যানবাহনের ধোঁয়া আর ফসলের গোড়া পোড়ানোর ধোঁয়ায় বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা আর গ্রিন হাউস গ্যাসের মাত্রা সবসময়েই বেশি থাকে। শীতের মুখে তা বিপদসীমা ছাড়িয়ে যায়। তখন বাতাসের অ্যারোসল, কুয়াশা, ফসল পোড়া ছাই আর গ্রিন হাউস গ্যাসের সঙ্গে মিলে ঘন কালো ধোঁয়াশা তৈরি করে। যেমন এ বছর এই ধোঁয়াশা সাঙ্ঘাতিক পর্যায় গিয়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) যথাক্রমে ৪৩৮, ৪৯১, ৪৮৬ ও ৪৭৩। কাজেই অঝোর বৃষ্টিই পারে এই ধূলিকণা ভরা দূষিত মেঘকে সরিয়ে দিতে। আর অসময়ের বৃষ্টি নামাতে পারে একমাত্র কৃত্রিম মেঘ, অর্থাৎ যে মেঘকে গবেষকরা বিশেষ উপায় তৈরি করেছেন।
কৃত্রিম মেঘ তৈরি করা বা রোপন করার পদ্ধতিকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘ক্লাউড সিডিং’। ঠিক যেভাবে ফসলের বীজ বপন করা হয়, তেমন ভাবেই আকাশে মেঘের বীজ বপন করা হয়।
মেঘের বীজ বুনলেই শুধু হল না, তার জন্য উপযুক্ত আবহাওয়ার পরিস্থিতিও দরকার। আইআইটি কানপুরের গবেষকরা বলছেন, কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য নির্দিষ্ট আবহাওয়ার প্রয়োজন, যেমন পর্যাপ্ত আর্দ্রতা এবং উপযুক্ত বাতাস। কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আবহাওয়ায় খানিকটা রদবদল করা হয়। সে জন্য ড্রোনের মাধ্যমে মেঘের উপর সিলভার আইয়োডাইডের মতো রাসায়নিক অথবা ড্রাই আইস ছড়িয়ে দেন গবেষকরা যাতে সেই মেঘের স্তর বর্ষার কালো মেঘের মতো গাঢ় হয়। এই মেঘের স্তর জমা করা হয় আকাশে।
বাতাসে যে সামান্য পরিমাণ জলীয় বাষ্প থাকে তা এই মেঘে ছড়ানো রাসায়নিক কণার চারপাশে ঘণীভূত হয়ে ছোট ছোট বরফ দানা তৈরি করে। তারপর যেভাবে মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় তেমনভাবেই এই বরফ দানা বাতাসের সংস্পর্ষে এসে ঘণীভূত হয়ে বৃষ্টির আকারে নেমে আসে। এই পদ্ধতিকে ‘নিউক্লিয়েশন’ বলা হয়।
আগামী ২০-২১ নভেম্বর দিল্লিতে এই কৃত্রিম বৃষ্টি নামানো হতে পারে বলে জানা গেছে। আকাশে মেঘ ছড়ানোর জন্য বিমান বা রকেট ব্যবহার করতে পারেন গবেষকরা। ইতিমধ্যেই আইআইটি কানপুরের ক্যাম্পাসে ৫,০০০ ফুট উঁচুতে বিমান উড়িয়ে মেঘের উপর রাসায়নিক ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে মেঘের স্তরকে আরও ঘন করা যায়। কৃত্রিম ভাবে বৃষ্টির জন্য যে ধরনের মেঘের সাহায্য নেওয়া হয়, সেগুলিকে পরিবাহী মেঘ বলা হয়। যে যে এলাকায় দূষণের মাত্রা বেশি সেখানে গিয়েই এই মেঘ ছড়িয়ে আসা হবে। বিশেষ বিমানে করে কৃত্রিম মেঘ দিল্লির আকাশে ছড়াবেন গবেষকরা। তাঁদের আশা, এই কৃত্রিম মেঘ থেকেই স্বস্তির বৃষ্টি নেমে রাজধানীর আকাশকে দূষণ-মুক্ত করবে।