রেলওয়ে বোর্ড ও আরপিএফকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মৃত সেনা জিগর চৌধুরি -অভিযুক্ত রেলকর্মী
শেষ আপডেট: 7 November 2025 13:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রেনে কম্বল আর চাদর চাওয়ার মতো সাধারণ অনুরোধই শেষ পর্যন্ত প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এক সেনা জওয়ানের (Army Jawan death)। রাজস্থানের এই মর্মান্তিক ঘটনায় (Army Jawan murder in train) এবার পদক্ষেপ করল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। অভিযোগ, এক রেলকর্মীর (কোচ অ্যাটেন্ডেন্ট) হাতে খুন হয়েছেন ওই ভারতীয় সেনা, নাম জিগর চৌধুরী (Jigar Chaudhary)।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩৫ বছরের ওই সেনা কর্মী কয়েক দিনের ছুটি নিয়ে ফিরছিলেন নিজের বাড়ি, গুজরাতের সবরমতিতে। নভেম্বরের ২ তারিখে তিনি পাঞ্জাবের ফিরোজপুর স্টেশন থেকে জম্মু তাওয়ি–সবরমতী এক্সপ্রেসের ‘বি–৪’ স্লিপার কোচে উঠেছিলেন। এসি কোচ হওয়ায় তিনি অ্যাটেনডেন্টের কাছে চাদর ও কম্বল চেয়েছিলেন।
কিন্তু ওই কর্মী, যিনি নিজেকে রেলওয়ে কর্মী বলে পরিচয় দেন, নিয়মের অজুহাত দেখিয়ে তা দিতে অস্বীকার করেন। শুরু হয় কথাকাটাকাটি, তর্ক। অভিযোগ, তারপরই ওই কর্মী ছুরি বের করে জওয়ানের পায়ে আঘাত করে। ধমনিতে গুরুতর চোট লাগায়, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় জিগরের।
বিকানারে পৌঁছনোর পর সরকারি রেল পুলিশ (GRP) টিটিই–র অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে।
অভিযুক্ত রেল অ্যাটেনডেন্টের নাম জুবায়ের মেমন। পুলিশ তার কাছ থেকে ইতিমধ্যেই খুনে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করেছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, জুবায়েরকে এক বেসরকারি কনট্রাক্টরের মাধ্যমে নিয়োগ করা হয়েছিল। ঘটনার পরই তাকে বরখাস্ত করা হয়।
মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপ
এই মর্মান্তিক ঘটনায় সরব হয়েছে মানবাধিকার কমিশন। সহ্যাদ্রি রাইটস ফোরামের অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন রেলওয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান ও রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সের (RPF) ডিজি-কে নোটিস পাঠিয়েছে।
কমিশনের চেয়ারম্যান প্রিয়ঙ্ক কানুনগোর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছে, অভিযোগে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইঙ্গিত মিলছে। কমিশন রেলের কাছে অভিযুক্ত কর্মীর নিয়োগপ্রক্রিয়া, যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও পুলিশ ভেরিফিকেশনের নথি চেয়েছে।
রেলওয়ে বোর্ড ও আরপিএফকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সেনা পরিবারের দাবি
জিগরের পরিবারের দাবি, “একজন মানুষ, যিনি ভারতের সেবার সঙ্গে যুক্ত, চলন্ত ট্রেনে চাদর চাওয়ার জন্য তাঁকে মরতে হবে - এ কেমন দেশ?” মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপে তাঁদের আশা, দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ মিলবে।
১৭ অগস্ট মীরাটের ভূনি টোল প্লাজায় এক সেনা জওয়ানকে মারধরের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়। সামান্য বচসা থেকে তাঁকে বেধড়ক মারধর করেছে টোল প্লাজার কর্মীরা, বলে অভিযোগ। ঘটনার পরপরই কড়া পদক্ষেপ করে ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এনএইচএআই)।
সেনা জওয়ানকে মারধরের ঘটনায় টোল প্লাজার দায়িত্বরত সংস্থাকে ২০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে সংস্থার বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ এনে ভবিষ্যতে টোল সংগ্রহের দরপত্রে অংশ নেওয়ার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। স্থানীয় থানায় এফআইআর দায়ের হলে। পুলিশ ছয় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।