পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, একদল ডাক্তার ও ধর্মীয় প্রচারক মিলে ‘আনসার ইন্টারিম’ (Ansar Interim) নামে নতুন একটি জঙ্গি সংগঠন গড়ে তুলেছিল, যার লক্ষ্যই ছিল কাশ্মীরে নাশকতামূলক কার্যকলাপ চালানো (Ansar Interim Kashmir terror)।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 15 February 2026 16:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরের ‘হোয়াইট-কলার’ জঙ্গি চক্র (white collar terror module India) ভেঙে ফেলার পর শুরু হয়েছে বিস্তারিত তদন্ত। তাতেই উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, একদল ডাক্তার ও ধর্মীয় প্রচারক মিলে ‘আনসার ইন্টারিম’ (Ansar Interim) নামে নতুন একটি জঙ্গি সংগঠন গড়ে তুলেছিল, যার লক্ষ্যই ছিল কাশ্মীরে নাশকতামূলক কার্যকলাপ চালানো (Ansar Interim Kashmir terror)।
রবিবার তদন্তকারী আধিকারিকরা জানান, এই মামলার তদন্তভার ইতিমধ্যেই নিয়েছে এনআইএ বা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (National Investigation Agency)। তদন্তে (NIA terror probe J&K) উঠে এসেছে, ডা. উমর-উন-নবি, যিনি ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি বিস্ফোরণে মারা যান, এর আগেও ২০১৬ ও ২০১৮ সালে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেওয়ার একাধিক চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তা কার্যকর হয়নি।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ডা. মুজামিল গানি, উমর-উন-নবি (মৃত), আদিল রাদার, আদিলের ভাই মুজ্জাফর রাদার (পলাতক), মৌলবি ইরফান, কারি আমির এবং তুফাইল গাজি - এই সকলেই ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে শ্রীনগরের ডাউনটাউনের ইদগা এলাকায় দেখাও করেন (doctor terror network Kashmir)। সেই বৈঠকেই ‘আনসার ইন্টারিম’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংগঠনের ‘আমির’ (প্রধান) হন আদিল রাদার, ডেপুটি আমির পদে ছিলেন মৌলবি ইরফান এবং আর্থিক দিক দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয় গানিকে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ‘আনসার’ নামটি সাধারণত আল কায়দা (Al-Qaeda)-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলির নামকরণে দেখা যায়।
ধৃতদের জেরা করে জানা গিয়েছে, আগে যেসব জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল, তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পরই নতুন সংগঠন গড়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। ওই বৈঠকেই প্রত্যেকের ভূমিকা, যোগাযোগের পদ্ধতি এবং অপারেশনাল কৌশল নির্ধারণ করা হয়।
উমর এই সংগঠনের কোঅর্ডিনেটরের ভূমিকায় ছিলেন। গানির সঙ্গে মিলে তিনি অর্থ সংগ্রহ ও বিস্ফোরক জোগাড়ের দায়িত্ব সামলাতেন।
২০২৩ সালে এই চক্র হরিয়ানার সোহনা ও নুহ এলাকা থেকে সার সংগ্রহ করে। উমরের নির্দেশে ফরিদাবাদের একটি দোকান থেকে এনপিকে রাসায়নিকও কেনা হয়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, উমর অনলাইন ভিডিও দেখে আইইডি (Improvised Explosive Device) তৈরির প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নেন এবং শেষ পর্যন্ত ট্রাইঅ্যাসিটোন ট্রাইপারঅক্সাইড (TATP) তৈরি করতে সক্ষম হন, যা অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরক, এবং বহু জঙ্গি হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে।
অন্যদিকে, আদিল নতুন সদস্য সংগ্রহ শুরু করে এবং দক্ষিণ কাশ্মীর থেকে দানিশ ওরফে জাসিরকে দলে টানে। দানিশকে আল ফালহা বিশ্ববিদ্যালয় (Al-Falah University)-এর কাছে একটি ভাড়া বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে সে উমর ও গানিকে বিস্ফোরক তৈরি করতে দেখে। পরবর্তীতে উমর দানিশকে আত্মঘাতী হামলায় অংশ নিতে রাজি করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আর্থিক সমস্যা ও ধর্মীয় কারণ দেখিয়ে দানিশ সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, পুলওয়ামার ২৮ বছরের এই ডাক্তার উমর-উন-নবিই ছিলেন সবচেয়ে বেশি উগ্রপন্থায় প্রভাবিত এবং কাশ্মীর, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী প্রধান ব্যক্তি।
তিনি নাকি একটি বড় গাড়িভর্তি আইইডি-সহ হামলার পরিকল্পনা করছিলেন, সম্ভবত রাজধানী বা কোনও ধর্মীয় স্থানে। এবং হামলার পর পালানোর ছকও তৈরি ছিল (white collar terror)।
এই পরিকল্পনা ভেস্তে যায় যখন শ্রীনগর পুলিশ গানিকে গ্রেফতার করে এবং তার কাছ থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার করে। তদন্তকারীদের মতে, এর জেরেই আতঙ্কে তড়িঘড়ি বিস্ফোরণ ঘটে লালকেল্লার কাছে (Delhi red fort blast)।
এই আন্তঃরাজ্য জঙ্গি চক্রের সূত্র প্রথম সামনে আসে ১৯ অক্টোবর, যখন শ্রীনগরের উপকণ্ঠ নওগামের বুনপোরা এলাকায় জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed)-এর পোস্টার দেখা যায়। ঘটনার পর মামলা দায়ের করে পুলিশ এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তিন জন স্থানীয় যুবককে গ্রেফতার করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে আগে পাথর ছোড়ার অভিযোগ ছিল।
তাদের জেরা করে ধরা পড়ে মৌলবি ইরফান আহমেদ, শোপিয়ানের এক প্রাক্তন প্যারামেডিক, যিনি পরে ইমাম হন। অভিযোগ, তিনিই পোস্টার সরবরাহ করেছিলেন এবং ডাক্তারদের উগ্রপন্থায় প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন।