বাহিনীর উপর অতর্কিতে গুলি চালাতে শুরু করে মাওবাদীরা। পালটা জবাব দেয় নিরাপত্তাবাহিনী। দীর্ঘক্ষণ গুলির লড়াইয়ের পরে মৃত্যু হয় ওই মহিলা মাও নেত্রীর।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 20 June 2025 15:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাওবাদমুক্ত ভারতের লক্ষ্যে ফের বড়সড় সাফল্য নিরাপত্তাবাহিনীর। শুক্রবার সকালে ছত্তীসগড়ের (Chhattisgarh) কাঁকের জেলায় যৌথ বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছে এক মহিলা মাওবাদী নেত্রীর (Maoist Leader)। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রও।
রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোপন সূত্রে খবর আসে যে কাঁকের জেলার ছোটেবেথিয়া থানা এলাকার আমাতোলা ও কালপার গ্রামের জঙ্গল ঘেরা অঞ্চলে একদল মাওবাদী লুকিয়ে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালায় ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড (DRG), বিএসএফ এবং স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর একটি যৌথ দল। কত্রি নদীর তীরে ঘন জঙ্গলে শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান।
এই অভিযান চলাকালীন বাহিনীর উপর অতর্কিতে গুলি চালাতে শুরু করে মাওবাদীরা। পালটা জবাব দেয় নিরাপত্তাবাহিনী। দীর্ঘক্ষণ গুলির লড়াইয়ের পরে মৃত্যু হয় ওই মহিলা মাও নেত্রীর। এখনও পর্যন্ত অবশ্য তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনায় কোনও নিরাপত্তারক্ষীর প্রাণহানি হয়নি বলেও জানানো হয়েছে। চলতি বছরেই শুধু বস্তার অঞ্চলে নিকেশ করা হয়েছে ২১৩ জন মাওবাদীকে, পুলিশ এমনই তথ্য দিয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই ঘোষণা করেছিলেন, ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে দেশকে সম্পূর্ণ মাওবাদমুক্ত করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সেই লক্ষ্যেই ছত্তীসগড়, অন্ধ্রপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড-সহ একাধিক রাজ্যে চলছে লাগাতার মাওবিরোধী অভিযান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে মাওবাদীদের অন্যতম ঘাঁটি হয়ে উঠেছে ছত্তীসগড় ও তেলঙ্গানার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকা। সেই অঞ্চল থেকে মাও প্রভাব নির্মূল করতে ইতিমধ্যেই প্রায় ৩ হাজার আধাসেনা মোতায়েন করা হয়েছে। গত এপ্রিল মাসের ২১ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে টানা অভিযান। প্রতিদিনই চলছে এলাকাভিত্তিক চিরুনি তল্লাশি।
শুধু সীমান্তবর্তী এলাকাই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বাহিনী যৌথভাবে মাওবাদী সংগঠনের উপর চাপ বজায় রেখেছে। শুক্রবারের অভিযানকে সেই ধারাবাহিক লড়াইয়ের বড় সাফল্য বলেই মনে করছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।