রাজস্থানের বাসিন্দা একজনের করা মামলায় রায় দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, চাকরি দেওয়ার একমাত্র ভিত্তি হতে পারে আর্থিক দুর্দশা ও জরুরি প্রয়োজন।

সুপ্রিম কোর্ট
শেষ আপডেট: 20 June 2025 15:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি চাকরি (Government Job) মানেই পরিবারের এক সদস্যের অবসর বা মৃত্যুর পর আরেকজন সেই পদে বসবেন — এমন ভাবনার দিন শেষ। সহানুভূতির ভিত্তিতে চাকরি কখনই ব্যক্তিগত অধিকার নয়, বরং তা একেবারেই ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে বিবেচনার বিষয়। এমনই ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)।
রাজস্থানের বাসিন্দা একজনের করা মামলায় রায় দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, চাকরি দেওয়ার একমাত্র ভিত্তি হতে পারে আর্থিক দুর্দশা ও জরুরি প্রয়োজন। শুধু পরিবারে সরকারি কর্মীর মৃত্যুই যথেষ্ট নয়, দেখতে হবে সেই মৃত্যুর ফলে পরিবারে অর্থসঙ্কট নেমে এসেছে কিনা। তেমন কিছু হলেই বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
ঘটনা ২০১৫ সালের। সেন্ট্রাল এক্সাইজ বিভাগের প্রধান কমিশনার পদে কর্মরত এক আধিকারিকের মৃত্যুর পরে তাঁর ছেলে রবি কুমার ওই দফতরেই সহানুভূতির ভিত্তিতে চাকরির আবেদন জানান। কিন্তু বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ তাঁর আবেদন নাকচ করে দেয়। কারণ হিসেবে জানানো হয়, রবি কুমারের পরিবার আর্থিকভাবে সচ্ছল। তাঁদের দুটি বাংলো, ৩৩ একর জমি এবং বাবার মৃত্যুর পর প্রতি মাসে ৮৫ হাজার টাকার পেনশন রয়েছে। ফলে চাকরির জন্য ‘সহানুভূতি’ দেখানোর মতো পরিস্থিতি নেই।
রবি সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। কিন্তু আদালতও একই রায় দেয়। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, “সরকারি চাকরি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়ার বস্তু নয়। এটা কোনও নিয়ম বা অধিকার নয়। বরং মৃত্যুর ফলে যদি পরিবারে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা নেমে আসে, তাহলে তা বিবেচ্য হতে পারে। কিন্তু পরিবারের স্থায়ী আয়ের উৎস থাকলে সেই যুক্তি খাটে না।”
আইনজ্ঞ মহলের মতে, এই রায় শুধু এক মামলার নিষ্পত্তিই নয়, বরং ভবিষ্যতের বহু আবেদনের দিশা দেখাবে। বহু ক্ষেত্রেই যেখানে সরকারি চাকরিকে পারিবারিক অধিকারের মতো দেখা হত, এই রায় সেখানে একটা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।