এই ঘটনাটি ঠিক এমন সময় প্রকাশ্যে এল, যখন বালেশ্বরের ফকির মোহন অটোনোমাস কলেজের এক ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ওড়িশায় ফের যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত অধ্যাপক
শেষ আপডেট: 17 July 2025 19:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অধ্যাপকের যৌন নিগ্রহের জেরে গায়ে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মঘাতী ছাত্রী। এই ঘটনার কয়েকদিন পরই ফের ওড়িশার (Odisha Incident) এক কলেজের অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শোরগোল। এই ঘটনায় পশ্চিম ওড়িশার সাম্বলপুর শহরের গঙ্গাধর মেহের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপককে গ্রেফতার করা হয়েছে (Another Professor Abuses Student In Odisha)।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত অধ্যাপক গোপীচাঁদ সুনা তাঁরই কলেজের এক ছাত্রীকে ফুঁসলে নিজের সরকারি কোয়ার্টারে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন করেন। ছাত্রীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত করে পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক প্রমাণ জোগাড় করে। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই ঘটনাটি ঠিক এমন সময় প্রকাশ্যে এল, যখন বালেশ্বরের ফকির মোহন অটোনোমাস কলেজের এক ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত শনিবার দুপুরে ইন্টিগ্রেটেড বি.এড কোর্সের ছাত্রী প্রিন্সিপালের অফিসের সামনেই নিজের গায়ে আগুন দেন। অভিযোগ, ওই ছাত্রীকে একাধিকবার অশালীন প্রস্তাব দেন তাঁর বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সমীর কুমার সাহু, যা সরাসরি যৌন হেনস্থার (Sexual Assault) পর্যায়ে পড়ে। এমনকি প্রস্তাবে রাজি না হলে ভবিষ্যৎ খারাপ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন (Threatened to destroy her future)।
ছাত্রীটি এই মর্মে কলেজের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটির কাছে গত ১ জুলাই লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছিলেন। সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরও কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ।
শনিবার এই ঘটনার বিরুদ্ধে তরুণী কলেজ গেটে সহপাঠীদের সঙ্গেই বিক্ষোভ দেখান। আচমকাই তিনি দৌড়ে অধ্যক্ষের অফিসের কাছে গিয়ে নিজের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন (Set herself ablaze)। সেই মর্মান্তিক দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে, দেখা যাচ্ছে- আগুনে জ্বলতে থাকা ছাত্রীটিকে বাঁচাতে গিয়ে আরেক ছাত্রও অগ্নিদগ্ধ হন। পরে কলেজের কর্মীরাই আগুন নেভান এবং তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে প্রথমে বালেশ্বর জেলা হাসপাতালে এবং পরে ভুবনেশ্বর এইমসে স্থানান্তরিত করা হয়। এই ঘটনায় ছাত্রীর শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সোমবার রাতে তরুণীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।
এক সপ্তাহের মধ্যে দু'টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এবং এক ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে গোটা ওড়িশা।