অঞ্জলি এই ভাগ্য মেনে নিতে রাজি ছিলেন না। তিনি চেয়েছিলেন জীবনকে অন্যভাবে গড়তে।

অঞ্জলি সোনধিয়া।
শেষ আপডেট: 30 May 2025 17:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের কার্ড প্রায় ছাপা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু, এক দেহাতি মা পারিবারিক-সামাজিক ঐতিহ্য, পরম্পরা ও সমস্তা রীতি-রেওয়াজকে উপেক্ষা করে মেয়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর কাছে গুরুত্ব পেয়েছিল ধুমধাম করে কিশোরী মেয়েকে পরের হাতে তুলে দেওয়ার থেকে মেয়ে কী হতে চায়, তার মনে কী স্বপ্ন রয়েছে, তা পূরণ করতে।
অঞ্জলি সোনধিয়ার বিয়ের ঠিক হয়, যখন তিনি কুড়ির কোঠাও ছোঁননি। মধ্যপ্রদেশের যে কোনও গ্রামের যা রীতি কিশোরী বয়সেই মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেওয়া। তেমনটাই হয়েছিল তাঁর ক্ষেত্রেও। যে সমাজে মেয়ের হাতে পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার থেকে বিয়ের চুড়ি-মেহেদি পরিয়ে দেওয়াই রেওয়াজ। কিন্তু, অঞ্জলি এই ভাগ্য মেনে নিতে রাজি ছিলেন না। তিনি চেয়েছিলেন জীবনকে অন্যভাবে গড়তে। আর মনের কথা জানিয়েছিলেন মাকে। মাও মেয়ের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিতে না চেয়ে রুখে দাঁড়ান সমাজের বিরুদ্ধে।
এক মুহূর্তে অঞ্জলির কাছে জীবনের মানেটাই যায় বদলে। যখন তাঁর মা সকলকে জানিয়ে দেন, এখন ও পড়াশোনা করবে। মেয়েকে বলেন, যতদিন না তুমি চাইবে ততদিন কেউ তোমার বিয়ে দিতে পারবে না। এই বলে হবু বিয়ে পাকা দেখার দিনই ভেঙে দেন তিনি। সকলের বিরূপতার পাত্র হলেও তিনি ছিলেন মেয়ের পাশে। নিজের পছন্দের মর্যাদা দিতে শিখিয়েছিলেন মেয়েকে।
ক্লাসে বরাবর প্রথম হতেন অঞ্জলি। পড়ার বই ও অসীম পরিশ্রমের দ্বারা তিনি অসাধ্য সাধন করে বসলেন। যে গ্রামের মেয়েরা স্কুলের গণ্ডি পেরোয়নি কেউ, সেই গ্রাম থেকেই পরপর তিনবার ইউপিএসসির পরীক্ষায় বসেন অঞ্জলি। কিন্তু, চতুর্থবার মার দিয়া কেল্লা করে ফেলেন। এই তিন বছরে বাবাকে হারিয়েছেন, ফেল করেছেন, কিন্তু তাঁকে দমানো যায়নি। বিয়ে করার জন্য প্রতিবার চাপ এলেও তা সহ্য করে গিয়েছেন মুখ বুঁজে।
তারপর সেই স্বপ্নের দিন সামনে আসে। ইউপিএসসির পরীক্ষায় ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিসে সর্বভারতীয় স্তরে ৯ নম্বরে স্থান পান অঞ্জলি। তাঁর অনেক বান্ধবীরা যখন ছেলেমেয়ের মা হয়ে ঘরকন্নে করছেন, তখন আইএফএসের উর্দি গায়ে চড়াতে চলেছেন অঞ্জলি। তিনি বলেন, ওরা আমার নিয়তি বদলে দিতে চেয়েছিল। আমার ভাগ্যলিখন করতে চেয়েছিল। তখন আমার বয়স ছিল ১৫। কিন্তু, আমি বুকভরা স্বপ্ন, চোখের জল, হাতে বই নিয়ে সেই নিয়তির লিখন নিজেই বদলে দিয়েছি।