পালি হিলের এই সম্পত্তি সহ একাধিক সম্পদ ‘রাইজই ট্রাস্ট’ নামে একটি পারিবারিক ট্রাস্টে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, এই কাঠামো তৈরির উদ্দেশ্য ছিল সম্পত্তিকে ব্যক্তিগত দায় থেকে সুরক্ষিত রাখা এবং আম্বানির সরাসরি যোগসূত্র আড়াল করা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 February 2026 14:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রিলায়েন্স গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান অনিল আম্বানির (Anil Ambani News) মুম্বইয়ের বিলাসবহুল বাসভবন ‘অ্যাবোড’ বাজেয়াপ্ত করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি (Anil Ambani House Attached By ED)। আর্থিক দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। সম্পত্তিটির আনুমানিক মূল্য ৩ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা। এর আগেও গত নভেম্বরে একই সম্পত্তির একটি অংশ, যার মূল্য প্রায় ৪৭৩ কোটি টাকা, তা সংযুক্ত করা হয়েছিল।
রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস (Reliance Communication) সংক্রান্ত ব্যাঙ্ক ঋণ জালিয়াতির তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থা আম্বানিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে দ্বিতীয় দফায় হাজিরা দেন তিনি। গত বছরের আগস্ট মাসেও তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
কী রয়েছে ‘অ্যাবোড’-এ
‘অ্যাবোড’ (Anil Ambani House) দক্ষিণ মুম্বইয়ের অভিজাত পালি হিল এলাকায় অবস্থিত ৬৬ মিটার উঁচু, ১৭ তলা বিশিষ্ট একটি বিল্ডিং। হেলিপ্যাড, সুইমিং পুল, জিমনেসিয়াম ও প্রশস্ত পার্কিং এলাকা - সব মিলিয়ে এটি শহরের অন্যতম চর্চিত ব্যক্তিগত আবাস।
বিলাসবহুল গাড়ির জন্য আলাদা লাউঞ্জও রয়েছে। রোলস-রয়েস, লেক্সাস, পোর্শে, অডি ও মার্সিডিজ-বেঞ্জের মতো দামী গাড়ির মালিকানা নিয়ে নানা প্রতিবেদন থাকলেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক আদালতে আম্বানি দাবি করেছিলেন যে তাঁর কাছে মাত্র একটি গাড়ি রয়েছে।
ইডির বিবৃতি
ইডি তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, পালি হিলের এই সম্পত্তি সহ একাধিক সম্পদ ‘রাইজই ট্রাস্ট’ নামে একটি পারিবারিক ট্রাস্টে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, এই কাঠামো তৈরির উদ্দেশ্য ছিল সম্পত্তিকে ব্যক্তিগত দায় থেকে সুরক্ষিত রাখা এবং আম্বানির সরাসরি যোগসূত্র আড়াল করা। ব্যাঙ্কগুলিকে দেওয়া ব্যক্তিগত গ্যারান্টির দায় এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস ও তার সহযোগী সংস্থাগুলি দেশি-বিদেশি ঋণদাতাদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়েছিল। বর্তমানে মোট বকেয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার সম্পত্তি সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ইয়েস ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ একটি সুসংগঠিত পদ্ধতিতে অন্যত্র সরানো হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শেল সংস্থার মাধ্যমে অর্থ ঘোরানো, অনুমোদনের আগেই ঋণ বিতরণ, এবং যথাযথ যাচাই ছাড়াই ঋণ মঞ্জুরির অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঋণ বিতরণের ঠিক আগে ইয়েস ব্যাঙ্কের প্রোমোটার-সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানে অর্থ লেনদেন হয়েছিল কিনা, তাও তদন্তাধীন।
এদিকে রিলায়েন্স হোম ফিন্যান্স লিমিটেডের ঋণ বিতরণেও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে কর্পোরেট ঋণ যেখানে ছিল ৩ হাজার ৭৪২.৬০ কোটি টাকা, পরের বছর তা বেড়ে ৮ হাজার ৬৭০.৮০ কোটিতে পৌঁছয়। এই বৃদ্ধির সঙ্গে বৃহত্তর ঋণ তছরুপের যোগ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।