তদন্ত এরপর আরও বড় পরিসরে এগোবে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন কর্তারা।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 24 July 2025 15:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনিল আম্বানির নেতৃত্বাধীন সংস্থাগুলিকে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুর করেছিল ইয়েস ব্যাঙ্ক (Yes Bank)। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ব্যাঙ্কের নিয়ম ভেঙে, একপ্রকার ঘুষ লেনদেন ও অন্দরমহলের গোপন সমঝোতার মাধ্যমে - এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।
সূত্রের খবর, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে এই বিপুল অঙ্কের ঋণ মঞ্জুর করা হয়, যা নিয়ে এখন মানি লন্ডারিং ও ব্যাংক জালিয়াতির (PMLA) অভিযোগে তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
ইডি জানিয়েছে, ঋণ দেওয়ার আগে যথাযথ অর্থনৈতিক যাচাই (due diligence) না করেই একাধিক সংস্থাকে টাকা দেওয়া হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর অনিয়ম। তার মধ্যে, ব্যাঙ্কের নীতি ভেঙে আগেভাগেই ঋণ মঞ্জুর অন্যতম। তাছাড়াও, বিনিয়োগ অনুমোদনের কাগজপত্রও পিছনের তারিখে তৈরি করা হয়। ঋণের টাকা শেল কোম্পানি ও গ্রুপের অন্যান্য সংস্থায় পাঠানো হয়েছিল। এবং যেসব সংস্থাকে ঋণ দেওয়া হয়েছে, তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল, ঠিকানা ও ডিরেক্টর মিলছে একাধিক ক্ষেত্রে।
কিছু ক্ষেত্রে ঋণের টাকা মঞ্জুর হয়েছে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার দিনই, কোনও প্রক্রিয়া ছাড়াই। এভারগ্রিনিংয়ের মতো অনিয়ম, অর্থাৎ পুরনো ঋণ শোধ করতে নতুন ঋণের ব্যবস্থাও নজরে এসেছে ইডির।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যার মাধ্যমে ব্যাঙ্ক, লগ্নিকারী, সাধারণ শেয়ারহোল্ডার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানদের ঠকানো হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, ঋণ মঞ্জুর হওয়ার আগে ইয়েস ব্যাঙ্কের শীর্ষ কর্তাদের ঘুষ দেওয়া হয়েছিল, এমনকী ব্যাঙ্কের প্রোমোটারদের নিজস্ব কোম্পানিতেও টাকা ঢুকেছিল।
এই মামলায় ইতিমধ্যেই ৩৫টির বেশি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং ৫০টিরও বেশি সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। অন্তত ২৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
এই তদন্তের ভিত্তি মূলত সিবিআই-এর দু'টি মামলা, যার মধ্যে রয়েছে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও ঋণের ক্ষেত্রে জালিয়াতির অভিযোগ। তদন্তে সহযোগিতা করছে ন্যাশনাল হাউজিং ব্যাঙ্ক, সেবি, ন্যাশনাল ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং অথরিটি এবং ব্যাঙ্ক অব বরোদা।
তদন্ত এরপর আরও বড় পরিসরে এগোবে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন কর্তারা।