স্কুল সূত্রে খবর, সম্প্রতি হেডমাস্টারের বদলি হওয়ায় ওই শিক্ষিকা মূলত ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন।

ভাইরাল ভিডিওর অংশ
শেষ আপডেট: 5 November 2025 14:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক স্কুলশিক্ষিকা আরাম করে চেয়ারে বসে মোবাইলে কথা বলছেন, আর স্কুল পোশাকে দু’জন ছাত্রী মাটিতে বসে তাঁর পা মালিশ করছে (student harassment)। জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে প্রায় দশ দিন আগে, তবে মঙ্গলবার ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) পার্বতীপুরম জেলার মোলিয়াপুট গ্রামের একটি আশ্রম স্কুল থেকে উঠে এসেছে এই লজ্জাজনক ছবি।
জানা গিয়েছে, ওই মহিলা বান্ডাপল্লি গার্লস ট্রাইবাল আশ্রম স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষিকা। এটি প্রায় ৩০০ ছাত্রীর একটি আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষিকা একটি চেয়ারে বসে অন্য একটিতে পা তুলে রেখেছেন, এদিকে দুই ছাত্রী নিচে বসে পা টিপছে। তিনি নির্বিকারভাবে ফোনে কথা বলে চলেছেন।
বিশাখাপত্তনম বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী এন. সুমনের মতে, এই আচরণ “একজন শিক্ষকের দায়িত্ববোধের ঘোর লঙ্ঘন”, যা “ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিশুদের শারীরিক ও মানসিক হয়রানির শামিল”। তাঁর কথায়, “এই ঘটনায় ছাত্রীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার অধিকার স্পষ্টভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে এবং শিশুদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার একটি জঘন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি হেডমাস্টারের বদলি হওয়ায় ওই শিক্ষিকা মূলত ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে এমন কোনও অভিযোগ ওঠেনি, বরং চাকরি জীবনে তিনি ভালই সুনাম অর্জন করেছিলেন।
At Bandapalli Girls Tribal Ashram School in Meliyaputti mandal, Srikakulam district, a teacher shamelessly made two young girl students massage her feet while she sat arrogantly talking on her cellphone. The disgraceful act, exposed belatedly, has enraged parents and locals.… pic.twitter.com/yTZqz9Rls8
— YSR Congress Party (@YSRCParty) November 4, 2025
কিন্তু ভাইরাল ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই হইচই পড়ে যায়। পার্বতীপুরম জেলার সীতামপেটার আইটিডিএ (ইন্টিগ্রেটেড ট্রাইবাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি)-র প্রজেক্ট অফিসার পাওয়ার স্বপ্নীল জগন্নাথ দ্রুত ব্যবস্থা নেন। তিনি শিক্ষিকাকে শোকজ নোটিস পাঠিয়ে সাময়িক বরখাস্ত করেন এবং জানান, “ঘটনাটি খতিয়ে দেখার জন্য পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে, রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি রাজনৈতিক বিতর্কও সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দল ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি এই ঘটনাকে “শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি এক তামাশা” বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে এক্স (আগের টুইটার)-এ দেওয়া পোস্টে লেখা হয়েছে, “শ্রীকাকুলম জেলার মেলিয়াপুটি মণ্ডলের বান্ডাপল্লি আশ্রম স্কুলে এক শিক্ষিকা নির্মমভাবে দুই ছাত্রীকে পা টিপতে বাধ্য করেছেন, আর তিনি তখন অহংকারভরে ফোনে কথা বলছেন। এই লজ্জাজনক ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। যে শিক্ষক ছোটদের মন গড়ার দায়িত্বে, তিনিই তাঁদের অপমান করেছেন, শিক্ষকতার পবিত্র পেশাকে কলঙ্কিত করেছেন। এটাই সেই শিক্ষা ব্যবস্থা, যা আজ তামাশায় পরিণত হয়েছে।”

বর্তমানে অভিযোগের ভিত্তিতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। প্রশাসনের আশ্বাস, দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বারবার ঘটছে এমন ঘটনা। গত মাসেই কর্নাটকের হোস্টেল-স্কুলে ১০ বছরের পড়ুয়াকে নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
ভাইরাল একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত ওই শিক্ষক ছাত্রটিকে টেনে হিঁচড়ে মারধর করছেন, থাপ্পড় থেকে লাথি কিছুই বাদ দেননি। পড়ুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, অন্যের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে দিদাকে ফোন করেছে সে। সেই ‘অপরাধের’ শিক্ষা দিতে ছাত্রের উপর নৃশংস নির্যাতন চালান শিক্ষক। বারবার ক্ষমা চেয়েও রেহাই পায়নি ওই পড়ুয়া।