এই সংশোধন বিলে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেসব জনপ্রতিনিধি পাঁচ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে একটানা ৩০ দিন হেফাজতে থাকবেন, তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে মুক্তি পাওয়ার পর পুনরায় তাঁরা পদে ফিরে আসতে পারবেন।

শেষ আপডেট: 20 August 2025 15:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বহু বিতর্কের মধ্যেই বুধবার লোকসভায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে—যে কোনও প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী যদি গুরুতর অপরাধের অভিযোগে টানা ৩০ দিন কারাবন্দি থাকেন, তবে ৩১তম দিনে তিনি পদচ্যুত হবেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর পেশ করা এই বিলের মধ্যেই বড় রকমের ষড়যন্ত্র দেখছেন বিরোধীরা। কারণ, তাঁদের মতে ইডি, সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি দিল্লির সরকারের হাতে। গত ১১ বছরে এটা স্পষ্ট যে বিজেপি কীভাবে এই ধরনের এজেন্সিকে রাজনৈতিক বিরোধীদের খতম করতে ব্যবহার করেছে। সুতরাং প্রস্তাবিত বিল পাশ হলে, বিরোধীদের সরকার ফেলে দিতে সেটাই হবে বিজেপির হাতিয়ার। এই বিল দেশের গণতন্ত্র, সাংবিধানিক ব্যবস্থাকেই একদিন গিলে খেতে চাইবে।
Laid the Constitution (One Hundred and Thirtieth Amendment) Bill, 2025 in the Lok Sabha. pic.twitter.com/wsohG2UP6x
— Amit Shah (@AmitShah) August 20, 2025
সরকার প্রস্তাবিত ওই বিলটি হল আসলে সংবিধান সংশোধন বিল (Constitution Amendment Bill)। সংবিধানের ১৩০ তম সংশোধন করে তা ঢোকানোর প্রস্তাব দিচ্ছে মোদী সরকার।
এই সংশোধন বিলে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেসব জনপ্রতিনিধি পাঁচ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে একটানা ৩০ দিন হেফাজতে থাকবেন, তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে মুক্তি পাওয়ার পর পুনরায় তাঁরা পদে ফিরে আসতে পারবেন।
हम चाहते हैं कि नैतिकता के मूल्य बढ़े। हम ऐसे निर्लज्ज नहीं हो सकते कि हम पर आरोप लगे और हम संवैधानिक पद पर बने रहे।
— गृहमंत्री श्री @AmitShah जी pic.twitter.com/SkM5nR4Zcx— Sambit Patra (@sambitswaraj) August 20, 2025
এদিন সংসদে সংসদে বিল পেশের সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধী দলগুলির তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি অভিযোগ করেন, “এটি হল বিরোধী রাজ্যগুলিকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত। ইচ্ছাকৃতভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের গ্রেফতার করে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা হচ্ছে।”
তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, “এই বিল কেন্দ্রীয় সরকারের স্বৈরাচারী মানসিকতার প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ও বিচারব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে বিরোধী সরকারগুলিকে উলটে ফেলার হাতিয়ার এটি।”
এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি নিয়ম মেনে আপত্তি জানান এবং বলেন, “এই বিল গণতন্ত্রের মূল নীতি—ফেডারেলিজম ও ‘ডিউ প্রসেস’—লঙ্ঘন করছে।”
অমিত শাহের বক্তৃতার সময় কয়েকজন বিরোধী সাংসদ তাঁকে উদ্দেশ্য করে কাগজ ছুঁড়ে দেন। চিৎকার-স্লোগানের জেরে দুপুরে একাধিকবার লোকসভা স্থগিত করতে হয়।