৫০ বছর আগের সরকার বদলের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সেই সময় যারা বলেছিলেন, কেউ কংগ্রেসকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না, তারা ভুল প্রমাণিত হন। জরুরি অবস্থার পরে অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনে প্রথমবারের জন্য 'অ-কংগ্রেস' সরকার গঠিত হয় এবং মোরারজি দেশাই দেশের প্রধানমন্ত্রী হন।”

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 25 June 2025 08:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন দেশে যে জরুরি অবস্থা (Emergency) জারি হয়েছিল, তার ৫০ বছর উপলক্ষে মঙ্গলবার দিল্লির ‘প্রধানমন্ত্রী সংগ্রহালয়’-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) কংগ্রেস ও ইন্দিরা গান্ধীকে (Indira Gandhi) তীব্র আক্রমণ করলেন। তাঁর কথায়, 'আমরা এমারজেন্সির মতো এক অন্ধকার অধ্যায়কে জয় করতে পেরেছি, কারণ এই দেশ কখনও স্বৈর-শাসনের কাছে মাথা নত করেনি।'
জরুরি অবস্থা জারি হওয়ার ৫০ বছর পূরণ (50 Years of Emergency) হওয়ার আগের সন্ধেয় এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শাহ বলেন, "এই সময় প্রশ্ন উঠতেই পারে আগে যা ঘটেছে, তা আবার কেন স্মরণ করা হচ্ছে? কারণ যখনই কোনও জাতীয় ঘটনার ৫০ বছর পূর্ণ হয়, তার স্মৃতি সমাজে মলিন হয়ে যায়। কিন্তু জরুরি অবস্থা জারি হওয়ার মতো একটি ঘটনা, যা গণতন্ত্রকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল, সেই স্মৃতি যদি হারিয়ে যায়, তা দেশের জন্য ক্ষতিকর।”
তিনি দাবি করেন, ইন্দিরা গান্ধীর (Former Prime Minister Indira Gandhi) সিংহাসন নড়ে যেতে পারে এই আশঙ্কায় কোনও বাইরের শত্রু বা অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ছাড়াই দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। শাহের বক্তব্য, 'সেই সময় সংসদের সঙ্গে কোনও পরামর্শ করা হয়নি। সকাল ৪টেয় জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকা হয়। তৎকালীন মন্ত্রীরা পরবর্তীতে জানিয়েছিলেন, বৈঠকের কোনও উদ্দেশ্য ছিল না, শুধু জানিয়ে দেওয়া হয় যে জরুরি অবস্থা জারি হচ্ছে।'
৫০ বছর আগের সরকার বদলের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সেই সময় যারা বলেছিলেন, কেউ কংগ্রেসকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না, তারা ভুল প্রমাণিত হন। জরুরি অবস্থার পরে অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনে প্রথমবারের জন্য 'অ-কংগ্রেস' সরকার গঠিত হয় এবং মোরারজি দেশাই দেশের প্রধানমন্ত্রী হন।”
তৎকালীন কংগ্রেস সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি বলেন, '৭৫-এর জরুরি অবস্থাকে এক লাইনে ব্যাখ্যা করা কঠিন। তবে আমি বলব, একটি গণতান্ত্রিক দেশের বহুদলীয় ব্যবস্থাকে একটা দলের স্বৈরতন্ত্রে রূপান্তর করার চক্রান্তই হল জরুরি অবস্থা।'
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সিদ্ধান্তের উল্লেখ করে বলেন, “২৫ জুন দিনটিকে ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে দেশ মনে রাখে কীভাবে স্বৈরাচারী নেতৃত্ব একটি দেশের গণতন্ত্রকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।”
অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, “আজ কিছু মানুষ সংবিধানের মর্যাদা নিয়ে বক্তৃতা দেন। আমি তাঁদের জিজ্ঞাসা করতে চাই, আপনি কোন দলে ছিলেন সেই সময়? যখন ইন্দিরা গান্ধী অল ইন্ডিয়া রেডিও-তে জরুরি অবস্থা জারি করার ঘোষণা করেছিলেন, তখন কি সংসদের মত নেওয়া হয়েছিল? বিরোধী নেতাদের কি জানানো হয়েছিল?”
শেষে তিনি বলেন, “সংবিধান শুধুমাত্র সংসদ বা আদালতের উপর নির্ভর করে টিকে থাকতে পারে না। এটি প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব ও অধিকার। তরুণ প্রজন্ম যেন কখনও ভুলে না যায়, কীভাবে একসময় দেশের সংবিধান স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেই স্মৃতি ধরে রাখার জন্যই আমাদের এই আয়োজন।”