শাহ বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে আধার কার্ড ও রেশন কার্ড পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, নিয়মিত খাদ্যশস্য বিতরণ চলছে, এমনকি গ্যাসের চুল্লিও দেওয়া হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, যারা নকশালবাদের পক্ষে কথা বলেন, তারা এত দশক ধরে কেন এই সমস্যার সমাধান করতে পারেননি।
.jpeg.webp)
অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 30 March 2026 18:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভায় নকশালবাদ (Naxalism Debate In Parliament) ইস্যুতে দীর্ঘ আলোচনার প্রেক্ষিতে কড়া বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সংসদে বক্তব্য রাখতে উঠে তিনি প্রথমেই স্পিকারকে ধন্যবাদ জানান এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার জন্য। তাঁর কথায়, ১৯৭০ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত বিস্তৃত এক দীর্ঘ সময়পর্বের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া দেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বক্তৃতায় শাহ স্পষ্ট করেন, নকশালবাদের নামে এখনও বহু মানুষ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। কেউ কেউ নিজেদের উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারের লড়াইয়ের দাবিদার বলে তুলে ধরলেও বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন বলে দাবি তাঁর। তিনি জানান, ছত্তীসগড়ের বস্তার অঞ্চলে নকশালবাদের প্রভাব এখন প্রায় নির্মূলের পথে। সরকার সেখানে গ্রামেগঞ্জে উন্নয়নমূলক কর্মসূচি চালিয়েছে - স্কুল তৈরি, রেশন দোকান চালু, তহশিল ও পঞ্চায়েত স্তরে হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়েছে।
শাহ আরও বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে আধার কার্ড ও রেশন কার্ড পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, নিয়মিত খাদ্যশস্য বিতরণ চলছে, এমনকি গ্যাসের চুল্লিও দেওয়া হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, যারা নকশালবাদের পক্ষে কথা বলেন, তারা এত দশক ধরে কেন এই সমস্যার সমাধান করতে পারেননি।
লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন। যারা সশস্ত্র আন্দোলনের পক্ষে সওয়াল করেন, তারা কি দেশের সংবিধানকে মানেন? তাঁর সাফ বক্তব্য, গোটা রাষ্ট্রব্যবস্থাকে অস্বীকার করে অস্ত্র তুলে নেওয়া কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধরনের কার্যকলাপ দেশের মধ্যে বরদাস্ত করা হবে না।
তিনি জানান, একসময় তথাকথিত ‘লাল করিডর’ এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল। প্রায় ১২ কোটি মানুষ এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। বহু তরুণ প্রাণ হারিয়েছে এই সংঘাতে। একটি বেসরকারি সংস্থার রিপোর্টের উল্লেখ করে শাহ বলেন, প্রায় ২০ হাজার যুবকের মৃত্যু হয়েছে এই নকশাল-হিংসায়।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, সময় বদলেছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে সরকার এই ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। যারা অস্ত্র তুলে নেবে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। পাশাপাশি তিনি জানান, সরকারের দরজা আলোচনার জন্য খোলা রয়েছে - সমস্যা শুনে তার সমাধান করা হবে এবং বাস্তবায়নের দিকেও নজর দেওয়া হবে।
তবে একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, কিছু মতাদর্শ এই অঞ্চলগুলিতে বেআইনি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং প্রশাসনিক কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করছে। সব মিলিয়ে লোকসভায় শাহর বক্তব্যে স্পষ্ট, উন্নয়ন ও কঠোর নিরাপত্তা - এই দুই পথেই নকশালবাদের মোকাবিলা করতে চায় কেন্দ্র সরকার।