এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে থেকে এখনও পর্যন্ত বিজেপির নেতারা হামেশাই বলে গেছেন যে, মৃত ভোটারের পাশাপাশি বহু সংখ্যক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গার নাম যাবে। সংখ্যাটা ১ কোটি বা তার বেশি হতে পারে!

অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 28 March 2026 17:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন এসআইআর (West Bengal SIR) প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল। তাতে দেখা যায়, খসড়া তালিকার তুলনায় ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার নাম বাদ গেছে। তার সঙ্গে এখন আরও প্রায় ১৪ লক্ষ জুড়লে সংখ্যাটা ৭৭ লক্ষ ছাপিয়ে যাচ্ছে। মনে করা হচ্ছে সংখ্যাটা শেষমেশ ৯০ লক্ষ ছুঁতে পারে। কিন্তু এদের মধ্যে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী (Illegal Bangladeshi) বা রোহিঙ্গা (Rohingya) কতজন?
এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে থেকে এখনও পর্যন্ত বিজেপির নেতারা হামেশাই বলে গেছেন যে, মৃত ভোটারের পাশাপাশি বহু সংখ্যক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গার নাম যাবে। সংখ্যাটা ১ কোটি বা তার বেশি হতে পারে! রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করে এসেছেন যে, এত সংখ্যক ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ যাবে। কিন্তু আদতে এই সংখ্যাটা কত, তা চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তো দূর, দুটি অতিরিক্ত তালিকার পরও বোঝা যাচ্ছে না।
তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে 'চার্জশিট' (BJP Chargesheet) পেশ করতে শনিবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করেছেন অমিত শাহ (Amit Shah)। সেখানে এই অনুপ্রবেশকারী ইস্যু থেকে শুরু করে দুর্নীতি, নারী সুরক্ষা, ভোট পরবর্তী হিংসা, এসআইআর... সব বিষয়ই ওঠে। কিন্তু অমিত শাহের মুখ থেকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বা রোহিঙ্গার সংখ্যার তথ্য সম্পর্কে কিছু বেরোয়নি। পরে দ্য ওয়াল সরাসরি তাঁকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করে। যদিও লাভ হয়নি।
দ্য ওয়ালকে অমিত শাহ স্পষ্ট বলেন, ''আমি কিছু জানি না, যা জানে নির্বাচন কমিশন জানে। ওরাই ঘোষণা করবে। আমাদের কাছে কোনও তথ্য নেই।''
যদিও এদিনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে অমিত শাহ স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, ''অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার ব্যাপারে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। শুধু ভোটার তালিকা থেকে নয়, পুরো দেশ থেকে এক একজন অনুপ্রবেশকারীকে বের করার কাজ বিজেপি করবে।''
তিনি এও দাবি করেন, আগামী ৪ মে রাজ্যে সরকার বদলের পর ৪৫ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ লাগোয়া সব সীমানা যেখানে ফেন্সিং নেই, সেই সব এলাকায় ফেন্সিং লাগানো হবে। বাংলাদেশ থেকে যাঁরা এ দেশে ঢোকেন, তাঁরাও বাংলা ভাষায় কথা বলেন। ফলে এ রাজ্যের বাসিন্দাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।