সেই সময় যোগাযোগের পরিকাঠামো ছিল সীমিত। ঠিক হয়েছিল, তিনি না পৌঁছলে বিয়ে পিছবে। কিন্তু তরুণ অফিসার আকাশ থেকেই সংকেত পাঠান কনের বাড়িতে। তাই বিমানবন্দরে নামার সময় তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ছিল মেয়ের বাড়ির সদস্যরা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 13 February 2026 19:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৬৫ সালের (India Pakistan Conflict) মে মাসের কথা। কচ্ছের রান এলাকায় সংঘর্ষ, কাশ্মীরে বাড়ছে অনুপ্রবেশ - ভারত-পাক সম্পর্ক (India Pakistan Tension) তখন তীব্র টানাপড়েনে। যুদ্ধের আশঙ্কায় সমুদ্রে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় নৌবাহিনী (Indian Navy)। ঠিক সেই সময়েই ঘটেছিল এক অভিনব ঘটনা। যুদ্ধবিমান উড়েছিল এক বিয়েবাড়ির উদ্দেশে!
ঘটনার নায়ক পরবর্তী কালে রিয়ার অ্যাডমিরাল হওয়া সন্তোষ কুমার গুপ্ত (Santosh Kumar Gupta)। ১২ মে ছিল তাঁর বিয়ের দিন। কোচিন (বর্তমান কোচি) থেকে ট্রেনে বেঙ্গালুরু হয়ে দেরাদুন যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু বেঙ্গালুরু পৌঁছনোর আগেই সামরিক পুলিশ জানায়, ভারত-পাক যুদ্ধ (India Pakistan Clash) ঘোষিত হয়েছে, সব ছুটি বাতিল। তাঁকে অবিলম্বে ফিরতে হবে জাহাজে।
৫ মে থেকে তিনি এবং তাঁর স্কোয়াড্রন বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রান্ত (INS Vikrant)-এ সমুদ্রে মহড়া ও প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। যুদ্ধের আবহে ব্যক্তিগত পরিকল্পনা কার্যত অনিশ্চিত। তবে তাঁর বিয়ের নির্ধারিত দিনের কথা ফ্লিট অ্যাডমিরালের কানে পৌঁছয়। আর তারপরই নেওয়া হয় এক বিরল সিদ্ধান্ত - ২৪ ঘণ্টার জন্য একটি হকার সি-হক (Hawker Sea Hawk) ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয় তাঁকে। শর্ত একটাই, বিয়ে সেরে দ্রুত ফিরে আসতে হবে দায়িত্বে।
১২ মে সকালে আইএনএস বিক্রান্ত থেকে ওড়ে সেই চপার। গন্তব্য বেঙ্গালুরু। বিয়ে সেরে পরদিন ভোরেই ফের জাহাজে অবতরণ করে সেটি। অর্থাৎ যুদ্ধের মাঝেই নৌবাহিনীর সাহায্যে নিজের বিয়ে সারেন সন্তোষ কুমার গুপ্ত।
সেই সময় যোগাযোগের পরিকাঠামো ছিল সীমিত। ঠিক হয়েছিল, তিনি না পৌঁছলে বিয়ে পিছবে। কিন্তু তরুণ অফিসার আকাশ থেকেই সংকেত পাঠান কনের বাড়িতে। তাই বিমানবন্দরে নামার সময় তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ছিল মেয়ের বাড়ির সদস্যরা।
১৯৫৮ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত নৌবাহিনীতে কর্মরত সন্তোষ কুমার গুপ্ত ১৯৭১ সালের যুদ্ধে INAS 300 ‘White Tigers’-এর নেতৃত্ব দেন এবং মহা বীর চক্রে সম্মানিত হন। দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত জীবনের এমন সমান্তরাল উড়ান ভারতীয় সামরিক ইতিহাসে বিরল বলেই ধরা হয়।
যদিও এই উড়ানের কোনও আনুষ্ঠানিক নথি নেই। সামরিক উড়ানের সাধারণত বিস্তারিত রেকর্ড থাকে, কিন্তু এই যাত্রা ছিল অননুমোদিত। তাই রসিকতা করে তিনি বলতেন, উড়ানের প্রমাণ নেই, বিয়ের রেজিস্ট্রেশনও হয়নি - তা হলে কি আদৌ বিয়ে হয়েছিল আমার?