মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্কবিধির জবাবে খোদ ট্রাম্পেরই এই জেট বিমান কেনার প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক হুমকির জেরে ভারত এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।

পঞ্চম প্রজন্মের জেট বিমান কেনার বিষয়ে অনিচ্ছা প্রকাশ করে নয়াদিল্লি ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দিয়েছে।
শেষ আপডেট: 1 August 2025 13:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিঃসারে আক্রমণ চালাতে অব্যর্থ নিশানাবাজ পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ কেনার মার্কিন প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল ভারত। সূত্রে জানা গিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্কবিধির জবাবে খোদ ট্রাম্পেরই এই জেট বিমান কেনার প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক হুমকির জেরে ভারত এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের খবর অনুযায়ী, এই পঞ্চম প্রজন্মের জেট বিমান কেনার বিষয়ে অনিচ্ছা প্রকাশ করে নয়াদিল্লি ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি মাসে হোয়াইট হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের সময়েই ট্রাম্প এই যুদ্ধবিমান ভারতকে বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সমঝোতার অঙ্গ হিসেবে এফ-৩৫ বিক্রি নিয়ে জোরাল সওয়াল করেন ট্রাম্প। কিন্তু, ভারতের লক্ষ্য হল যৌথ কৌশলে দেশে তৈরি অস্ত্র ও বিমান তৈরির দিকে।
এই অবস্থায় এফ-৩৫ কেনার বিষয়ে ভারতের পুরোপুরি অনীহা প্রকাশের পিছনে রয়েছে দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে প্রবলতর অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায়। ট্রাম্প ভারতের উপর একচেটিয়া ২৫ শুল্ক চাপিয়ে দেওয়া কার্যকরী হবে আগামী ৭ অগস্ট থেকে। যার ফলে ভারতীয় বাণিজ্য কর্তা ও শিল্পমহলের কাছে বিরাট সংকট খাড়া করেছে।
মোদী সরকার এই মুহূর্তে কোনও বদলা শুল্ক চাপানোর নীতি না নিলেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য লোকসান কমানোর চেষ্টা তলায় তলায় চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে মার্কিন মুলুকের প্রাকৃতিক গ্যাস, সোনা ও যোগাযোগ সংক্রান্ত সামগ্রী আমদানির বিষয়ে পর্যালোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা নিয়ে কোনও চিন্তাভাবনা আলোচনার টেবিলে নেই।
বর্তমান বিশ্বে এফ-৩৫ হল সবথেকে আধুনিক প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান। লকহিড মার্টিনের তৈরি এই যুদ্ধবিমান অনেক দেশের হাতেই আছে। বিশেষত ভারত এই যুদ্ধবিমান কিনলে পাকিস্তানের থেকে অনেকগুণ এগিয়ে থাকত। কারণ, পাকিস্তানের হাতে এত আধুনিক জেট বিমান এখনও আসেনি।
আর সে কারণেই ভারতকে দীর্ঘদিন ধরে এই বিমান বেচতে আগ্রহী ট্রাম্প। আমেরিকার তির সম্পূর্ণত চিনের দিকে। কারণ, ভারত এই জাতীয় যুদ্ধবিমান কিনে রাখলে এশীয় অঞ্চলে কমিউনিস্ট চিন বেশ খানিকটা সমঝে চলবে ভারতকে, যাতে আখেরে লাভ হবে ওয়াশিংটনেরই। তবে নয়াদিল্লির মতে, ভবিষ্যতে ভারত বিদেশ থেকে যুদ্ধ সরঞ্জামের প্রযুক্তি খরিদ করে দেশে সেই অস্ত্র বা বিমান-ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুতে আগ্রহী। তাই আমেরিকার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।