পিএসএলভি-সি৬২ থেকে স্যাটেলাইট আলাদা হওয়ার পর ক্যাপসুলটি চালু হয় এবং পৃথিবীতে গুরুত্বপূর্ণ টেলিমেট্রি ডেটা পাঠাতে সক্ষম হয়। চরম রি-এন্ট্রি তাপমাত্রা ও উচ্চ মাত্রার ডেসেলারেশন সহ্য করেও প্রায় তিন মিনিটের বেশি সময় ধরে তথ্য পাঠিয়েছে এই ফুটবল-আকারের প্রোটোটাইপ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 13 January 2026 18:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইসরোর পিএসএলভি-সি৬২ মিশনের (PSLV-C62) ব্যর্থতার ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই মিলল এক অপ্রত্যাশিত সাফল্যের গল্প। স্পেনের মহাকাশ স্টার্টআপ অরবিটাল প্যারাডাইম (Orbital Paradigm) জানিয়েছে, তাদের ২৫ কেজি ওজনের পরীক্ষামূলক রি-এন্ট্রি ক্যাপসুল ‘কেস্ট্রেল ইনিশিয়াল ডেমনস্ট্রেটর’ (KID) উৎক্ষেপণের সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কার্যত অক্ষত অবস্থায় কাজ করেছে।
সংস্থার দাবি, পিএসএলভি-সি৬২ (PSLV-C62) থেকে স্যাটেলাইট আলাদা হওয়ার পর ক্যাপসুলটি চালু হয় এবং পৃথিবীতে গুরুত্বপূর্ণ টেলিমেট্রি ডেটা পাঠাতে সক্ষম হয়। চরম রি-এন্ট্রি তাপমাত্রা ও উচ্চ মাত্রার ডেসেলারেশন সহ্য করেও প্রায় তিন মিনিটের বেশি সময় ধরে তথ্য পাঠিয়েছে এই ফুটবল-আকারের প্রোটোটাইপ।
অরবিটাল প্যারাডাইম এক্স-এ জানায়, “সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে গিয়েই আমাদের কেস্ট্রেল ক্যাপসুল পিএসএলভি-সি৬২-এর চতুর্থ ধাপ থেকে আলাদা হতে পেরেছে। ক্যাপসুল চালু হয়, ডেটা পাঠায় এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ও প্রায় ২৮ জি ডেসেলারেশন সহ্য করে। ভিতরের তাপমাত্রার তথ্যও আমাদের হাতে এসেছে। শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে।”

১২ জানুয়ারি এই ক্যাপসুলটি সহ-যাত্রী হিসেবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। মূল পে-লোডগুলির ভাগ্য যখন তৃতীয় ধাপের (PS3) অস্বাভাবিকতার কারণে কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, তখনও ‘অল এগেনস্ট অল অডস’ চতুর্থ ধাপ থেকে আলাদা হয় কেস্ট্রেল ক্যাপসুলটি।
পিএসএলভি-সি৬২ ছিল ২০২৬ সালে ইসরোর (ISRO) প্রথম উৎক্ষেপণ। শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপিত এই রকেটে ছিল ইসরোর ইওএস-এন১ (অণ্বেষা) উপগ্রহ - ডিআরডিও-র কৌশলগত নজরদারি স্যাটেলাইট। পাশাপাশি ছিল আরও ১৫টি সহ-যাত্রী উপগ্রহ, যার মধ্যে ছিল আয়ুলস্যাট (অন-অরবিট রিফুয়েলিং প্রযুক্তির জন্য), মরিশাস, নেপাল-সহ একাধিক দেশের আন্তর্জাতিক পে-লোড।
কিন্তু পিএস৩ ধাপের শেষ বার্নে গোলযোগ দেখা দেয়। ফলে কক্ষপথে সঠিকভাবে প্রবেশ করতে পারেনি রকেট, এবং ১৬টি উপগ্রহই কার্যত হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ইসরো চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন জানান, তৃতীয় ধাপে ‘ডেভিয়েশন’ ধরা পড়েছে এবং ডেটা বিশ্লেষণ চলছে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মিশন ব্যর্থ ঘোষণা করা হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে কেস্ট্রেল ক্যাপসুলের সাফল্য বেসরকারি মহাকাশ উদ্যোগের জন্য এক বড় মাইলফলক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফরাসি সংস্থা রাইড-এর সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি এই ক্যাপসুল ভবিষ্যতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রি-এন্ট্রি প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট সার্ভিসিং এবং ডি-অরবিটিং মিশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়োজিত রি-এন্ট্রির সময় সংগৃহীত এই টেলিমেট্রি ডেটা গবেষণার ক্ষেত্রে অমূল্য। অরবিটাল প্যারাডাইম শীঘ্রই বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছে, যা কেস্ট্রেল প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ দ্রুত বাস্তবায়নে সহায়ক হতে পারে।
ইসরোর ক্ষেত্রে, পিএসএলভি-র ৬৪তম অভিযানের এই বিরল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখা এখন অগ্রাধিকার। গগনযান ও চন্দ্রযান-৪-এর মতো আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ মিশনের আগে পিএস৩ ধাপের সমস্যার নিরসনই এখন ইসরোর প্রধান লক্ষ্য।