২০১৪ সালের আইনে যেখানে হায়দরাবাদকে অস্থায়ী রাজধানী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, সংশোধনী আইনে তা বদলে সরাসরি বলা হয়েছে—অমরাবতীই হবে নতুন রাজধানী।

চন্দ্রবাবু নাইডু
শেষ আপডেট: 7 April 2026 12:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) রাজধানী (Capital) হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেল অমরাবতী (Amaravati)। ৬ এপ্রিল জারি হওয়া গেজেট নোটিফিকেশনে (Gazette Notification) এই সিদ্ধান্তে আইনি সিলমোহর পড়েছে। ২০২৬ সালের অন্ধ্রপ্রদেশ পুনর্গঠন (সংশোধনী) আইন (Andhra Pradesh Reorganisation Amendment Act, 2026)-এর অধীনে এই ঘোষণা করা হয়েছে।
নোটিফিকেশন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২ জুন থেকেই কার্যকর ধরা হবে এই সিদ্ধান্ত। ফলে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অমরাবতীকে সরকারিভাবে রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হল। ২০১৪ সালে তেলঙ্গানা (Telangana) আলাদা হওয়ার পর থেকে হায়দরাবাদকে (Hyderabad) যৌথ রাজধানী (Joint Capital) হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। সেই ১২ বছরের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল এবার।
এই সিদ্ধান্তের কথা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ নিজেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু (N Chandrababu Naidu)। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “অন্ধ্রপ্রদেশের রাজধানী অমরাবতী।”
এই ঘোষণার পেছনে রয়েছে ধারাবাহিক আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া। ২৮ মার্চ অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভা (State Assembly) অমরাবতীকে সমর্থন জানিয়ে প্রস্তাব পাশ করে। তারপর ১ এপ্রিল লোকসভা (Lok Sabha) এবং ২ এপ্রিল রাজ্যসভা (Rajya Sabha)-তে বিলটি পাশ হয়।
২০১৪ সালের আইনে যেখানে হায়দরাবাদকে অস্থায়ী রাজধানী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, সংশোধনী আইনে তা বদলে সরাসরি বলা হয়েছে—অমরাবতীই হবে নতুন রাজধানী।
এই সিদ্ধান্তের জন্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu)-কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নাইডু। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-র দিকনির্দেশনার কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, “এটা অন্ধ্রপ্রদেশের মানুষের জয়, বিশেষ করে অমরাবতীর কৃষকদের (Farmers)।”
তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। বিরোধী দল ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি (YSR Congress Party)-র সাংসদ গোল্লা বাবু রাও (Golla Babu Rao) এই আইনকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর দাবি, রাজধানী সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে সমাজের সব স্তরের মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করা উচিত।
সব মিলিয়ে বহু প্রতীক্ষিত ঘোষণায় একদিকে যেমন স্পষ্টতা এল, তেমনই নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূচনাও হল।