প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ অনন্তকুমার হেগড়ে 'ওরা সবরু গ্রুপের (Sabru Group) লোক, মারো ওদের!' বলে আক্রমণকে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রসঙ্গত, এখানে 'সবরু গ্রুপ' (Sabru Group) বলতে কর্ণাটকের মুসলিমদের কটূভাবে বোঝানো হয়।

ভাইরাল ভিডিও
শেষ আপডেট: 24 June 2025 13:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দলিত মুসলিম পরিবারকে মারধর, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ কর্নাটকের প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ (Karnataka Former BJP MP) অনন্তকুমার হেগড়ের (Anantkumar Hegde) বিরুদ্ধে। এফআইআর দায়ের হয়েছে। এই ঘটনায় সোমবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় তোমাকুরুর দাবাসপেট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন হেলানাহল্লির বাসিন্দা সইফ খান।
সইফ খানের (Saif Khan) অভিযোগ, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ তিনি ও তাঁর পরিবার ইনোভা ক্রিস্টা গাড়িতে একটি বিয়েবাড়ি থেকে ফিরছিলেন। সেই সময় ৪৮ নম্বর জাতীয় সড়কের নিজাগাল এলাকায় তাঁদের গাড়িকে একটি সাদা রঙের এক্সইউভি-৭০০ গাড়ি রাস্তায় আটকায়। ওই গাড়িতে ছিলেন তিনজন। একজন চিৎকার করে বলেন, “আমি ডিপার্টমেন্ট থেকে এসেছি।” এরপর তাঁদের গাড়ি জোর করে রাস্তার পাশে দাঁড় করানো হয়।
অভিযোগকারী আরও জানান, এক ব্যক্তি তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করেন। তাঁর ভাই সলমন খানকেও গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে মারধর করা হয়, ভাইয়ের তিনটি দাঁত ভেঙে গিয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর। এসবের মধ্যেই প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ অনন্তকুমার হেগড়ে 'ওরা সবরু গ্রুপের (Sabru Group) লোক, মারো ওদের!' বলে আক্রমণকে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রসঙ্গত, এখানে 'সবরু গ্রুপ' (Sabru Group) বলতে কর্ণাটকের মুসলিমদের কটূভাবে বোঝানো হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, সইফ খানের মা প্রতিবাদ করলে অনন্তকুমার তাঁকে ঘাড় ধরে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে দেন। তাঁর পোশাক ধরেও টান দেন। মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়, আঘাত করা হয় মাথায়। সইফের কাকা ইলিয়াস খানকেও মারধর করা হয়, তাঁর দাঁত ভেঙে যায়, প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সইফের গোটা পরিবারকে গুলি করে খুন করার হুমকি দেয় তাঁরা। এই হামলার পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের ডাবাসপেট সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে সইফের বয়ান রেকর্ড করে পুলিশ।
পুলিশের এফআইআরে অনন্তকুমার হেগড়েকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাঁর গানম্যান ও চালকের নামও এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ভিডিও-সহ সমস্ত তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।