পুলিশ জানিয়েছে, আক্রান্তদের প্রথমে একটি সেলুনে নিয়ে গিয়ে তাঁদের মাথা অর্ধেক ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। তারপর হাঁটু গেড়ে প্রায় এক কিলোমিটার টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। শুধু তাই নয়, তাঁদের জোর করে খাওয়ানো হয় ঘাস, নর্দমার জল।

ছবি- এআই
শেষ আপডেট: 24 June 2025 12:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গরু পাচারের ‘অপরাধে’ (Cattle Smuggling Suspicion) ভয়াবহ নিগ্রহের শিকার হতে হল দুই দলিত ব্যক্তিকে। ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার গঞ্জাম জেলার ঝাহাদা এলাকায়। অভিযোগ, তাঁদের মাথা অর্ধেক ন্যাড়া করে দেওয়া হয়, টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় প্রায় কিলোমিটার, জোর করে খাওয়ানো হয় ঘাস এবং নর্দমার জল।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার (২৩ জুন) খারিগুমা গ্রামে বাবুলা নায়ক (৫৪) ও বুলু নায়ক (৪২) হরিয়ৌর থেকে দু'টি গরু ও একটি বাছুর নিয়ে নিজেদের গ্রাম সিংগিপুরে ফিরছিলেন। সেই সময় তাঁদের স্থানীয়দের কয়েকজন ঘিরে ধরে। যারা নিজেদের 'পশু বাঁচাও বাহিনী' হিসেবে দাবি করে। দু'জনের বিরুদ্ধে গরু পাচারের অভিযোগ এনে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় শুরু হয় নির্যাতন।
পুলিশ জানিয়েছে, আক্রান্তদের প্রথমে একটি সেলুনে নিয়ে গিয়ে তাঁদের মাথা অর্ধেক ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। তারপর হাঁটু গেড়ে প্রায় এক কিলোমিটার টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। শুধু তাই নয়, তাঁদের জোর করে খাওয়ানো হয় ঘাস, নর্দমার জল। বাবুলা ও বুলু নায়ক পরে কোনওরকমে পালিয়ে এসে ধারাকোট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের অভিযোগ, ওই গরুগুলি আসন্ন বিয়েতে মেয়েকে উপহার দেওয়ার জন্য কেনা হয়েছিল।
এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় গোটা ওড়িশায় শোরগোল তৈরি হয়েছে। যদিও এক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, ভিডিওর সত্যতা এখনও যাচাই করা হয়নি। গঞ্জামের পুলিশ সুপার সুবেন্দু কুমার পাত্র জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে, ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজ চলছে।
আক্রান্ত দু’জনকেই ধারাকোট কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে, অভিযুক্তদের উদ্দেশ্য পশুরক্ষা নয় বরং চাঁদা আদায়। তা না পেলেই এভাবে অত্যাচার করে।
এনিয়ে মুখ খুলেছেন ওড়িশার প্রাক্তন পিসিসি (প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি) সভাপতি নিরঞ্জন পট্টনায়কও। এক্স-এ তিনি লেখেন, 'শুধু গরু কেনার জন্যই দুই যুবককে নিষ্ঠুরভাবে অত্যাচার করা হয়েছে। শুনে বুক ফেটে যাচ্ছে। এটা কেবল জাতবিদ্বেষ ও হিংসার ঘটনা নয়, আমাদের ন্যায়ের ব্যবস্থাকেও ছোট করা হয়েছে।” তিনি আরও লেখেন, “ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী এখনও চুপ কেন? এই নীরবতা ন্যায়বিচারের বিপক্ষে।”