আরব দুনিয়ার অশান্ত পরিস্থিতির জেরে আকাশছোঁয়া বিমানভাড়া। দুবাই-সহ একাধিক দেশ থেকে ভারতে ফেরার টিকিটের দাম ছুঁইছুঁই ১ লক্ষ টাকা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 6 March 2026 13:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ায় সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে ব্যাহত বিমান চলাচল। তার প্রভাব এবার সরাসরি পড়ল ভারতীয় যাত্রীদের উপর। গত কয়েক দিনে হাজার হাজার ভারতীয় দেশে ফিরতে গিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। কারণ একটাই—টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম। কিছু রুটে একমুখী ভাড়া প্রায় ১ লক্ষ টাকা ছুঁয়ে ফেলেছে।
ধীরে ধীরে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও সমস্যা এখনও কাটেনি। ফ্লাইট কম, যাত্রী বেশি। ফলে সাধারণ ভাড়ার কয়েকগুণ বেশি দাম দিয়েই টিকিট কাটতে হচ্ছে অনেককে।
সীমিত ফ্লাইট, চাহিদা আকাশছোঁয়া
ওই সব এলাকায় সামরিক উত্তেজনার পর কয়েকদিন বিমান চলাচল প্রায় স্তব্ধ হয়ে যায়। ধীরে ধীরে পরিষেবা ফের শুরু হয়েছে। ৪ মার্চ ভারত ও আরব দুনিয়ার শহরগুলোর মধ্যে প্রায় ৫৮টি বিশেষ ফ্লাইট চালায় ভারতীয় এয়ারলাইন। এর মধ্যে ছিল ইন্ডিগো (IndiGo), এয়ার ইন্ডিয়া (Air India) এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস (Air India Express)।
বিদেশি সংস্থাগুলিও সীমিত পরিষেবা চালু করেছে। তবে স্বাভাবিকের তুলনায় ফ্লাইটের সংখ্যা এখনও অনেক কম। আর এই জায়গাতেই তৈরি হয়েছে বড় সমস্যা।
অসংখ্য যাত্রী একই সময়ে দেশে ফিরতে চাইছেন। কিন্তু সিটের সংখ্যা কম। ফলে বাজারের সহজ নিয়মই কাজ করছে—চাহিদা বেশি, জোগান কম। আর তার ফলেই টিকিটের দাম দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে।
অনেক এয়ারলাইন আবার ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতিতে ভাড়া ঠিক করে। বুকিং বাড়লে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দামও বাড়তে থাকে।
দুবাই–মুম্বই রুটে ১ লক্ষ টাকার টিকিট
সবচেয়ে বড় ধাক্কা দেখা যাচ্ছে দুবাই–মুম্বই রুটে। সাধারণ সময়ে এই রুটে একমুখী টিকিটের দাম থাকে প্রায় ৫ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকার মধ্যে।কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা।
৮ মার্চের সম্ভাব্য ভাড়া অনুযায়ী—
অর্থাৎ স্বাভাবিক ভাড়ার প্রায় ছয় থেকে সাত গুণ পর্যন্ত দাম দিতে হচ্ছে যাত্রীদের।
অনেকেই শেষ মুহূর্তে বুকিং করছেন। ফলে যে ফ্লাইটে সিট পাওয়া যাচ্ছে, সেইটিই নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিকল্প রুট খুঁজছেন যাত্রীরা
এই পরিস্থিতিতে অনেক যাত্রী বিকল্প বিমানবন্দর ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে ওমানের মাসকট (Muscat) এখন গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হয়ে উঠেছে।
বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪ (Flightradar24) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মাসকাটে বিমান চলাচল অনেক বেড়েছে।
অনেক প্রবাসী আবার গাড়ি চালিয়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পাড়ি দিয়ে ওমান বা সৌদি আরব পৌঁছাচ্ছেন, শুধু একটি ফ্লাইট ধরার আশায়।
মাসকট–দিল্লি রুটে বর্তমানে ভাড়া—
সৌদি আরব থেকেও তুলনামূলক কম ভাড়ায় ফ্লাইট পাওয়া যাচ্ছে। জেদ্দা–মুম্বই রুটে—
তবে এটাও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি।
এদিকে দুবাইয়ের এমিরেটস (Emirates) জানিয়েছে, আঞ্চলিক আকাশপথ বন্ধ থাকায় ৭ মার্চ পর্যন্ত বেশিরভাগ ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়েছে। আবার কাতার এয়ারওয়েজ (Qatar Airways) সাময়িকভাবে পরিষেবা বন্ধ রেখেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অস্বাভাবিক ভাড়া চলতেই পারে। আরও বেশি ফ্লাইট চালু হলে তবেই ভাড়া ধীরে ধীরে কমার সম্ভাবনা।
তার আগে পর্যন্ত উপসাগর থেকে দেশে ফেরাটা অনেক ভারতীয়ের কাছে কঠিন পরীক্ষাই হয়ে থাকবে।