সংস্থার ইতিহাসে প্রথম ‘প্রোডাকশন ওয়াইডবডি’ বিমান, যা টাটা গোষ্ঠীর অধীনে দেওয়া ৪৭০টি বিমানের বৃহৎ অর্ডারের অংশ।

এয়ার ইন্ডিয়ার মেকওভার
শেষ আপডেট: 28 January 2026 08:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টাটা গোষ্ঠীর (TATA Group) হাতে ফিরে আসার পর রূপান্তরের পথে আরও এক ধাপ এগোল এয়ার ইন্ডিয়া। বিমান সংস্থাটি তাদের প্রথম ‘লাইন-ফিট’ বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার প্রকাশ করল, যার কেবিন থেকে শুরু করে অন্দরমহল বিশেষভাবে এয়ার ইন্ডিয়ার জন্যই নকশা করা (Air India unveiled its first line-fit Boeing 787-9 Dreamliner)। নতুন এই বিমানকে এয়ার ইন্ডিয়ার আধুনিকীকরণ পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক মানের পরিষেবা গড়ে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেই মনে করছে সংস্থাটি।
VT-AWA নম্বরের এই বিমানটি বোয়িংয়ের (Boeing) আমেরিকার এভারেট কারখানা থেকে তৈরি হয়ে এসেছে। ১১ জানুয়ারি কোনও বিরতি ছাড়াই দীর্ঘ উড়ানে এটি দিল্লিতে পৌঁছয়। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিমানটি মুম্বই-ফ্রাঙ্কফুর্ট আন্তর্জাতিক রুটে বাণিজ্যিক পরিষেবায় যুক্ত হবে।
এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) সিইও ও এমডি ক্যাম্পবেল উইলসন জানান, এটি সংস্থার ইতিহাসে প্রথম ‘প্রোডাকশন ওয়াইডবডি’ বিমান, যা টাটা গোষ্ঠীর অধীনে দেওয়া ৪৭০টি বিমানের বৃহৎ অর্ডারের অংশ। তিনি বলেন, “বেসরকারিকরণের পর প্রায় ১০০টি নতুন ও লিজ নেওয়া বিমান আমাদের বহরে যুক্ত হয়েছে। তবে এটি প্রথম বিমান, যা পুরোপুরি এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য নকশা করা।”
এই নতুন ড্রিমলাইনারে (Dream Liner) তিন শ্রেণির কেবিন রয়েছে- বিজনেস, প্রিমিয়াম ইকোনমি ও ইকোনমি। মোট আসন সংখ্যা ২৯৬। সব আসনেই রয়েছে আধুনিক থ্যালেস AVANT Up ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেম এবং ৪কে কিউএলইডি টাচস্ক্রিন।
বিজনেস ক্লাসে রয়েছে ৩০টি স্যুইট, যা ১-২-১ বিন্যাসে সাজানো। ফলে প্রত্যেক যাত্রী সরাসরি আইলে পৌঁছতে পারবেন। এই স্যুইটগুলি সম্পূর্ণ ফ্ল্যাট বেডে বদলে যায়। সঙ্গে রয়েছে ব্লুটুথ অডিও, ওয়্যারলেস চার্জিং, ফাস্ট চার্জিং পোর্ট এবং অতিরিক্ত ব্যক্তিগত স্টোরেজ। প্রাইভেসির জন্য স্লাইডিং দরজা দেওয়া হয়েছে, যদিও তা এখনও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের অপেক্ষায়।
প্রিমিয়াম ইকোনমিতে রয়েছে ২৮টি আসন, সাজানো ২-৩-২ বিন্যাসে। এই ক্লাসে যাত্রীরা পাবেন বেশি লেগরুম, আরামদায়ক হেডরেস্ট এবং বড় স্ক্রিন। ইকোনমি ক্লাসে মোট ২৩৮টি আসন (৩-৩-৩ বিন্যাস), তবে এর মধ্যে ২২০টি আসনই বুকিংয়ের জন্য খোলা থাকবে।
এয়ার ইন্ডিয়ার নতুন কেবিন ডিজাইন তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থা JPA Design–এর সহযোগিতায়। কেবিনে ভারতীয় রঙের ব্যবহার, নরম আলো এবং উন্নত স্টোরেজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে যাত্রা আরও শান্ত ও আরামদায়ক হয়। টাটা এলক্সসি বিশেষ একটি আলোক ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যা ভারতের প্রাচীন ‘চক্র’ ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত। দীর্ঘ ভ্রমণে যাত্রীদের ক্লান্তি কমাতে এই আলো বড় ভূমিকা নেবে বলে জানা যাচ্ছে।
নতুন কেবিন প্রকাশ করা হয়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India Makeover) পাঁচ বছরের রূপান্তর প্রকল্প ‘ভিহান.এআই’-এর অংশ হিসেবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন বিমান কেনা, পুরনো বিমানের কেবিন উন্নত করা, নতুন রুট চালু করা এবং পরিকাঠামো শক্তিশালী করার কাজ চলছে।
বর্তমানে এয়ার ইন্ডিয়ার বহরে রয়েছে ৩০০-র বেশি বিমান, এবং সংস্থাটি বিশ্বের ১০৬টি গন্তব্যে পরিষেবা দেয়। উল্লেখ্য, প্রায় ৭০ বছর পর ২০২২ সালে এয়ার ইন্ডিয়া আবার টাটা গোষ্ঠীর হাতে ফিরে আসে।