সেই দুঃসহ স্মৃতি আজও তাড়া করছে তাঁকে। দুর্ঘটনার পরে দেহে বহু আঘাত, মনে গভীর ক্ষত। ভাই অজয় কুমারকে হারিয়েছেন তিনি, যিনি একই বিমানে ছিলেন (Ahmedabad Plane Crash)।

বিশ্বাসকুমার রমেশ
শেষ আপডেট: 4 November 2025 08:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জুনের ১২ তারিখের ভয়াবহ এয়ার ইন্ডিয়া বিমান (Air India Plane Crash) দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচেছিলেন মাত্র একজন— ব্রিটেনের লেস্টারে বসবাসকারী ৪০ বছরের বিশ্বাসকুমার রমেশ (Vishwas Kumar Ramesh)। সেই দুঃসহ স্মৃতি আজও তাড়া করছে তাঁকে। দুর্ঘটনার পরে দেহে বহু আঘাত, মনে গভীর ক্ষত। ভাই অজয় কুমারকে হারিয়েছেন তিনি, যিনি একই বিমানে ছিলেন (Ahmedabad Plane Crash)।
লেস্টারে সম্প্রদায়িক এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে রমেশ বলেন, “এটা খুব বেদনাদায়ক... আমি ভেঙে পড়েছি। আমি প্রায় নড়াচড়া করতে পারি না, স্ত্রীই এখন আমার ভরসা।” পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD)-এ ভুগছেন তিনি। প্রায় দিনভর নিজের ঘরেই কাটান।
অর্থকষ্টে ভাঙছে পরিবার
দিউ-তে তাঁদের পারিবারিক মাছ ধরার ব্যবসা দুর্ঘটনার পর প্রায় ধ্বংস। ফলে আর্থিক টানাপড়েন চলছে দুই দেশে— ভারত ও ব্রিটেনে। আইনজীবী ও ক্রাইসিস অ্যাডভাইজর র্যাড সিগার, যিনি রমেশের পরিবারকে প্রতিনিধিত্ব করছেন, এয়ার ইন্ডিয়ার সিইও ক্যাম্পবেল উইলসনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের দাবি তুলেছেন।
তিনি বলেন, “এই দুর্ঘটনা পুরো পরিবারটিকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। রমেশের শারীরিক ও মানসিক ক্ষত অনেক গভীর। তাঁকে এখনই দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা দিতে হবে।” সিগারের অভিযোগ, এয়ার ইন্ডিয়ার দেওয়া ২১,৫০০ পাউন্ডের অন্তর্বর্তী ক্ষতিপূরণ “দৈনন্দিন প্রয়োজনে একেবারেই যথেষ্ট নয়।”
এয়ার ইন্ডিয়ার প্রতিক্রিয়া
এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, তাঁরা “একজন মাত্র জীবিত যাত্রী এবং দুর্ঘটনাগ্রস্ত সব পরিবারের প্রতি পূর্ণ দায়বদ্ধতা” অনুভব করেন। সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, টাটা গোষ্ঠীর শীর্ষ কর্তারা ব্যক্তিগতভাবে পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। বিষ্ণুর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে।
সংস্থার দাবি, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৯৫ শতাংশ পরিবার ইতিমধ্যেই অন্তর্বর্তী ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। “এই ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের পাশে থাকা আমাদের অগ্রাধিকারের বিষয়,” জানিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া।
ভারতের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (AAIB)-এর প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, আমদাবাদের সর্দার বল্লভভাই পটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওড়ার কয়েক সেকেন্ড পরই বিমানের ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি ভেঙে পড়ে। যার জেরে বিমানে থাকা ২৪৩ জন যাত্রীর মধ্যে ২৪২ জনের মৃত্যু হয়, নিহত হন মাটিতে থাকা আরও ১৯ জন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় আমদাবাদের বিজে মেডিক্যাল কলেজের একাংশও।
দুর্ঘটনার পর দেড় মাসের বেশি কেটে গেলেও রমেশ আজও ঘুমের মধ্যে সেই মুহূর্তগুলোতে ফিরে যান। তিনি এখন সরকারের ও সংস্থার কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেন তাঁর ও পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, আর্থিক ও মানসিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়— “যাতে অন্তত এই বেঁচে যাওয়াটা বেঁচে থাকার মতো হয়।”