ছয় মাস কেটে গেলেও সেই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার ক্ষত আজও স্পষ্ট আমদাবাদের মেঘানিনগরে। এয়ার ইন্ডিয়ার AI-171 বিমানের দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত বি জে মেডিক্যাল কলেজের হস্টেল চত্বর আজও যেন মৃত্যুর নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 14 December 2025 16:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছয় মাস কেটে গেলেও সেই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার ক্ষত আজও স্পষ্ট আমদাবাদের মেঘানিনগরে। এয়ার ইন্ডিয়ার AI-171 বিমানের দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত বি জে মেডিক্যাল কলেজের হস্টেল চত্বর আজও যেন মৃত্যুর নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এক সময় যেখানে ছাত্রছাত্রীদের হাসি-আড্ডার শব্দ শোনা যেত এলাকায়, সেখানে এখন পোড়া দেওয়াল, ঝলসে যাওয়া গাছ আর থমথমে নিস্তব্ধতা।

গত ১২ জুন লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়ানের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২৬০ জন। বিমানটি সরাসরি আছড়ে পড়ে মেঘানিনগরের বি জে মেডিক্যাল কলেজের হস্টেল কমপ্লেক্সের ওপর। মুহূর্তে তছনছ হয়ে যায় গোটা হস্টেল চত্বর।
.jpg)
এতগুলো দিন, সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও দুর্ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে সেই ভয়াল দিনের চিহ্ন। পুড়ে যাওয়া গাড়ি ও মোটরবাইক, বেঁকে যাওয়া খাট ও আসবাব, ছাই হয়ে যাওয়া বই, জামাকাপড় ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, সব মিলিয়ে জায়গাটি যেন এক জীবন্ত স্মৃতিসৌধ। অতুল্যম ৪ হস্টেল ভবন এবং তার পাশের ক্যান্টিন সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত। নিরাপত্তার কারণে সেখানে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তারক্ষী।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে একটি দোকান রয়েছে। সেই দোকানের মালিক বলেন, “এত বড় বিপর্যয় আমি জীবনে দেখিনি। বিমানটা প্রথমে আমার দোকানের পেছনের গাছে ধাক্কা মারে, তারপর হস্টেলে আছড়ে পড়ে।” সেই ভয়াল দিনের কথা মনে করে আজও আতঙ্কে কেঁপে ওঠেন তিনি। তাঁর কথায়, “আজও কোনও বিমান মাথার ওপর দিয়ে গেলেই অজান্তে আকাশের দিকে তাকিয়ে ফেলি।”

দুর্ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষী জানিয়েছেন, “এখন গোটা এলাকা খুবই চুপচাপ। আগে যেখানে ছাত্রদের কোলাহল শোনা যেত, এখন শুধু পাখির ডাক শোনা যায়।” তাঁর কথায়, জায়গাটি দেখলেই গা শিউরে ওঠে।