এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, ১ সেপ্টেম্বরের পর যারা দিল্লি-ওয়াশিংটন রুটে টিকিট বুক করেছেন, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে অথবা বুকিংয়ের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
.jpg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 11 August 2025 17:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপড়েন ও নানা বাধার মাঝেই দিল্লি থেকে ওয়াশিংটন ডিসি-র সরাসরি বিমান পরিষেবা বন্ধ করার ঘোষণা করল এয়ার ইন্ডিয়া। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই আকাশপথে আর কোনও নন-স্টপ বিমান চালানো হবে না।
বিমান সংস্থার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দুটি প্রধান কারণে এই পরিষেবা স্থগিত রাখা হচ্ছে। প্রথমত, এয়ার ইন্ডিয়ার ২৬টি বোয়িং ৭৮৭-৮ বিমান বর্তমানে আধুনিকীকরণের কাজের জন্য পরিষেবা থেকে সরানো হয়েছে। এই কাজ চলবে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত। ফলে বিমানের সংখ্যা কমে যাওয়ায় অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রুট সচল রাখতে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানের আকাশসীমা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় বিমানগুলিকে বিকল্প পথে অনেকটা বেশি দূরত্ব উড়তে হচ্ছে, যা সময় ও খরচ, দুটোই বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, ১ সেপ্টেম্বরের পর যারা দিল্লি-ওয়াশিংটন রুটে টিকিট বুক করেছেন, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে অথবা বুকিংয়ের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
তবে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ হলেও যাত্রীরা ‘ওয়ান স্টপ’ পরিষেবার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে যেতে পারবেন। এয়ার ইন্ডিয়ার সহযোগী সংস্থা আলাস্কা এয়ারলাইন্স, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স এবং ডেল্টা এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে নিউইয়র্ক, শিকাগো, নেওয়ার্ক, সান ফ্রান্সিসকো ও ওয়াশিংটন ডিসি পৌঁছনো সম্ভব হবে। লাগেজ চেক-ইন করা যাবে গন্তব্য পর্যন্ত।
উত্তর আমেরিকার অন্যান্য শহরের সঙ্গে এয়ার ইন্ডিয়ার সরাসরি সংযোগ অপরিবর্তিত থাকছে। ভ্যানকুভার, টরেন্টো-সহ ছয়টি শহরে নন-স্টপ পরিষেবা আগের মতো চালু থাকবে। এই সিদ্ধান্তে দিল্লি-ওয়াশিংটন যাত্রীদের কিছুটা অসুবিধা হলেও সংস্থা জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিষেবার মান ধরে রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল।
গত সপ্তাহে এয়ার ইন্ডিয়ার সিইও ক্যাম্পবেল উইলসন জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পরিষেবা ২০২৫ সালের ১ অক্টোবরের মধ্যে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে। ধাপে ধাপে ১ আগস্ট থেকে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চালু হয়েছে। এর আগে জুন মাসে এআই১৭১ দুর্ঘটনার পর অতিরিক্ত নজরদারির জন্য স্বেচ্ছায় ‘সেফটি পজ’ ঘোষণা করেছিল এয়ার ইন্ডিয়া। তিনি আরও বলেন, 'আমরা নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও যত্নের মান বজায় রাখার জন্য আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপই স্বচ্ছতার সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে।”
‘সেফটি পজ’ এয়ার ইন্ডিয়াকে নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধির কাজ ও ফ্লাইট বিলম্ব ব্যবস্থাপনা উন্নত করার সুযোগ দিয়েছে। সংস্থার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ডিসিজিএ (DGCA) এবং আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ICAO)-র মান অনুসারে পরিচালিত হয়। নিয়মিত DGCA ও IATA-র অডিটও হয়। বেসরকারিকরণের পর পূর্ণ নিরাপত্তা পর্যালোচনা এবং বোয়িংকে পরিচালনাগত দক্ষতা বৃদ্ধির কাজের জন্য অলিভার ওয়াইম্যান/কাভোক-কে যুক্ত করেছে এয়ার ইন্ডিয়া।