নিয়মিত নির্ধারিত উড়ানের পাশাপাশি অতিরিক্ত কিছু বিশেষ উড়ানও রাখা হয়েছে। মূল লক্ষ্য, সংঘাতের কারণে পশ্চিম এশিয়ায় আটকে পড়া যাত্রীদের দ্রুত সরিয়ে আনা।

আরব দুনিয়ার কয়েকটি গন্তব্যে এয়ার ইন্ডিয়া-ইন্ডিগোর সীমিত পরিষেবা
শেষ আপডেট: 7 March 2026 14:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানকে ঘিরে চলা সংঘাতের জেরে (Middle East conflict) পশ্চিম এশিয়ায় বিমান চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত (aviation disruption) হয়েছিল। তবে পরিস্থিতি সামান্য স্বাভাবিক হতে শুরু করতেই ভারত ও উপসাগরীয় দেশগুলির মধ্যে আবার সীমিত আকারে উড়ান পরিষেবা চালু হচ্ছে (India Gulf Flights Resume)।
৭ মার্চ থেকে একাধিক বিমান সংস্থা আরব দুনিয়ার কয়েকটি গন্তব্যে সীমিত সংখ্যক উড়ান চালুর ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগো (Air India IndiGo Gulf Evacuation Flights)।
সংঘাতের জেরে আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী বিভিন্ন দেশে আটকে পড়েছিলেন। নতুন করে চালু হওয়া এই উড়ানগুলির মূল উদ্দেশ্য হল সেই যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং জরুরি বিমান সংযোগ বজায় রাখা।
তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। কাতার এয়ারওয়েজ এখনও তাদের উড়ান পরিষেবা স্থগিত রেখেছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার ৫০টি উড়ান
এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস মিলিয়ে মোট ৫০টি উড়ান পরিষেবা চালুর ঘোষণা করেছে। এই উড়ানগুলি ভারতের সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক শহরকে যুক্ত করবে। তালিকায় রয়েছে—
এই তালিকায় নিয়মিত নির্ধারিত উড়ানের পাশাপাশি অতিরিক্ত কিছু বিশেষ উড়ানও রাখা হয়েছে। মূল লক্ষ্য, সংঘাতের কারণে পশ্চিম এশিয়ায় আটকে পড়া যাত্রীদের দ্রুত সরিয়ে আনা।
এক বিবৃতিতে বিমান সংস্থা জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে আটকে পড়া যাত্রীদের সাহায্য করতে ৭ মার্চ প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক উড়ান চালানো হচ্ছে।
ইন্ডিগোর সীমিত পরিষেবা
আরব দুনিয়ার আকাশসীমা আংশিকভাবে খুলে যাওয়ার পর ইন্ডিগো-ও ওই অঞ্চলে সীমিত উড়ান পরিষেবা পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত খুব সীমিত সংখ্যক উড়ানের সূচি তৈরি করা হয়েছে। পরিস্থিতি কীভাবে বদলাচ্ছে, তার উপর নজর রেখেই ধাপে ধাপে পরিষেবা বাড়ানো হবে।
কাতার এয়ারওয়েজের উড়ান এখনও বন্ধ
অন্যদিকে কাতার এয়ারওয়েজ এখনও তাদের নির্ধারিত উড়ান পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। কাতারের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহণে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত হাজার হাজার উড়ান বাতিল হয়েছে, ফলে গোটা বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রেই বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সংঘাতের সূত্রপাত
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের উপর হামলা চালায়। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অচলাবস্থার জেরেই এই হামলা হয়েছিল বলে জানা যায়। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। বিশেষ করে যেসব দেশে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলিই ছিল লক্ষ্যবস্তু।
এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে, যেখানে বিমান চলাচল থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক যাতায়াত সবকিছুই মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।
এখন সীমিত আকারে উড়ান শুরু হলেও পরিস্থিতি এখনও অস্থির বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।