প্রাথমিক এই রিপোর্টে দুর্ঘটনার আসল কারণ চূড়ান্ত নাও হতে পারে। তবু এই রিপোর্ট থেকে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 1 July 2025 18:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেদাবাদে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার (Ahmedabad Plane Crash) প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হতে পারে আগামী সপ্তাহেই। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) নির্দেশিকা অনুযায়ী, দুর্ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট দাখিল করা বাধ্যতামূলক। সেই প্রেক্ষিতেই মনে করা হচ্ছে আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে একটি রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসবে (Primary Report)।
গত ১২ জুন আমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান উড়ানের (Air India Crash) ৩২ সেকেন্ডের মধ্যেই ভেঙে পড়ে একটি মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলের ওপর। প্রাণ হারান বিমানে থাকা ২৪১ জন যাত্রী-ক্রুসহ অন্তত ২৭০ জন। সেই দুর্ঘটনা কী করে ঘটল তা খতিয়ে দেখতে এতদিন ধরে তদন্ত চলছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, চার থেকে পাঁচ পাতার একটি রিপোর্ট প্রস্তুত হচ্ছে।
সূত্রের খবর, প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে থাকছে দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়ানটির প্রযুক্তিগত খুঁটিনাটি, পাইলট ও ক্রুদের তথ্য, আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের পরিস্থিতি এবং ওই সময়কার আবহাওয়ার বিস্তারিত বিবরণ। এছাড়া, বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে কী তথ্য পাওয়া গেছে, কে তদন্তের নেতৃত্বে রয়েছেন, তদন্ত কতদূর এগিয়েছে — সবই থাকবে এই রিপোর্টে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে কোন দিকগুলিতে আরও খুঁটিনাটি তদন্ত প্রয়োজন, তাও স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হবে।
যদিও প্রাথমিক এই রিপোর্টে দুর্ঘটনার আসল কারণ চূড়ান্ত নাও হতে পারে। তবু এই রিপোর্ট থেকে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই শুরু হবে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরবর্তী ধাপ।
আমেদাবাদের দুর্ঘটনায় মৃত ৫২ জন ছিলেন ব্রিটেনের বাসিন্দা। তাঁদের পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণ (Compensation) দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা ‘যথেষ্ট নয়’ বলে মনে করছেন তারা। সূত্রের খবর, তাঁরা যোগাযোগ করেছেন লন্ডনভিত্তিক আইন সংস্থা কিস্টোন ল-এর সঙ্গে। সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে, তাদের সঙ্গে একাধিক পরিবারের আলোচনাও হয়েছে। বিষয়টি শুধু বীমা সংস্থার প্রাথমিক ক্ষতিপূরণ অফারেই আটকে নেই, বরং আন্তর্জাতিক আইন মেনে ‘আগাম অর্থ’ দেওয়ার দায়বদ্ধতা কতটা মানছে সংস্থাগুলি, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।