প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিপ্লব এনেছিল এই বোয়িং। বিমানটির প্রায় ৫০% অংশ তৈরি হয়েছে কার্বন ফাইবার কম্পোজিট দিয়ে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 June 2025 19:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আধুনিক বাণিজ্যিক উড়ানের জগতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছিল বোয়িং-এর ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার (Boeing 787-8 Dreamliner)। কিন্তু বৃহস্পতিবার লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এই ড্রিমলাইনার যেভাবে আমদাবাদে ভেঙে পড়ল (Ahmedabad Plane Crash), তাতে অনেকটাই যেন আস্থা টলে গেল বলে মনে করা হচ্ছে। এয়ার ইন্ডিয়া ছাড়াও অনেক বিমান সংস্থআই এই বোয়িং ব্যবহার করে।
৭৮৭-৮ বোয়িং ড্রিমলাইনার প্রথম বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরু করেছিল ২০১১ সালে। এই বিমানটি প্রযুক্তি, যাত্রী-স্বাচ্ছন্দ্য এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য অসাধারণ। বর্তমানে এয়ার ইন্ডিয়া ছাড়া
বোয়িং ৭৮৭-৮ কোন দিক থেকে আলাদা?
প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিপ্লব এনেছিল এই বোয়িং। বিমানটির প্রায় ৫০% অংশ তৈরি হয়েছে কার্বন ফাইবার কম্পোজিট দিয়ে। ফলে এটি অনেক হালকা ও টেকসই। প্রচলিত পদ্ধতির বদলে উন্নত ইলেকট্রিক সিস্টেম ব্যবহারে জ্বালানি সাশ্রয় হয়। রোলস-রয়েস ট্রেন্ট ১০০০ অথবা জেনারেল ইলেকট্রিকের GEnx-1B ইঞ্জিন ব্যবহৃত হয়েছে এবং ডানার বিশেষ ডিজাইন বাতাসে ঘর্ষণ কমায় এবং জ্বালানি খরচ বাঁচায়।
যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের দিকটিও এক্ষেত্রে দেখা হয়েছে -
বায়ু চাপ নিয়ন্ত্রণ: ৬,০০০ ফুটের সমতুল্য কেবিন প্রেসার — ক্লান্তি কমায়।
বেশি আর্দ্রতা: ডিহাইড্রেশন কম হয়।
বিশাল জানালা: সবচেয়ে বড় জানালা, যার গ্লাস টিন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
কেবিন শব্দ অনেক কম: উন্নত শব্দ নিরোধক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে।
এলইডি লাইটিং: দীর্ঘ যাত্রায় সময় অনুযায়ী আলো বদলে যাত্রীদের জেটল্যাগ কমায়।
এছাড়াও ২০% পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয় পুরনো ৭৬৭ মডেলের তুলনায়। কার্বন নিঃসরণ কমায়। ফলে ছোট শহর থেকে বড় শহরের সরাসরি ফ্লাইটে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
২০১৩ সালে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির সমস্যা তৈরি হলেও দ্রুত নতুন ডিজাইন ও সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিমানটি এখন অন্যতম নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য বিমান হিসেবে এতদিন সুপরিচিত ছিল।