আমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়া এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি ২০২৩-এর জুনেই পেরিয়েছিল নির্ধারিত ‘কমপ্রিহেনসিভ মেইনটেন্যান্স চেক’।

এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮
শেষ আপডেট: 15 June 2025 14:32
দ্য় ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে টেকঅফের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়া এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি ২০২৩-এর জুনেই পেরিয়েছিল নির্ধারিত ‘কমপ্রিহেনসিভ মেইনটেন্যান্স চেক’। পরবর্তী পরীক্ষা করা হত চলতি বছরের ডিসেম্বরে—এমনটাই জানালেন এয়ারলাইন্সের এক শীর্ষ আধিকারিক।
বিমানটি লন্ডন গ্যাটউইকের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল, কিন্তু কিছুক্ষণ পরই আমদাবাদের বিজে মেডিক্যাল কলেজের আবাসনে ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২৪২ জন যাত্রী ও কর্মীর মধ্যে ২৪১ জনের মৃত্যু হয়। একমাত্র এক যাত্রী অলৌকিকভাবে বেঁচে যান।
এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, বিমানটির 'সি চেক' অর্থাৎ সম্পূর্ণ পরিদর্শন করা হয়েছিল ২০২৩ সালের জুনে, এবং পরবর্তী এমন চেক নির্ধারিত ছিল ডিসেম্বরে। চেকগুলি করেছিল AI Engineering Services Ltd (AIESL)।
প্রায় ১২ বছর পুরনো ওই বিমানটিতে ব্যবহৃত জেনারেল ইলেকট্রিকের তৈরি GEnx ইঞ্জিন। ডান দিকের ইঞ্জিনটি মার্চ ২০২৫-এ সম্পূর্ণভাবে ওভারহল করে নতুন করে বসানো হয়, এবং বাম দিকের ইঞ্জিনটি এপ্রিল ২০২৫-এ নিয়মমাফিক পরীক্ষাও করা হয়েছিল বলে জানান সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
তাঁরা আরও দাবি করেন, উড়ানের আগে বিমান বা ইঞ্জিন—কোনও দিক থেকেই কোনও ত্রুটি বা অসঙ্গতির তথ্য মেলেনি। তবে, এখন পর্যন্ত এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
এই দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা DGCA গত শুক্রবার এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ও ৭৮৭-৯ বিমানগুলির জন্য ‘এনহান্সড সেফটি চেক’ চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার দাবি, এককালীন এই সেফটি চেক প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে এবং ইতিমধ্যে ৯টি বিমানে এই পরীক্ষা সম্পূর্ণ হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার বর্তমান বহরে রয়েছে ২৬টি বোয়িং ৭৮৭-৮ এবং ৭টি বোয়িং ৭৮৭-৯ মডেল। GE Aerospace, যারা বিমানটির ইঞ্জিন প্রস্তুতকারক সংস্থা, জানায়—DGCA-র এই বাড়তি নিরাপত্তা পরীক্ষার পদক্ষেপকে তারা পূর্ণ সমর্থন করছে এবং তদন্তে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
এদিকে, প্রাক্তন অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী প্রফুল পটেল শুক্রবার বলেন, টাটা গোষ্ঠীর অধীনে এয়ার ইন্ডিয়া থাকার তিন বছর পরেও আন্তর্জাতিক মানের একটি এয়ারলাইন্স চালাতে হলে রক্ষণাবেক্ষণ-সহ নানা বিষয় আরও নিখুঁতভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।
এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে Aircraft Accident Investigation Bureau (AAIB)। একইসঙ্গে গঠিত হয়েছে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি, যারা দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখবে বলে জানানো হয়েছে।