পরিকল্পনারই প্রতিফলন দেখা গেল ফলাফলে। মুসলিম জনসংখ্যা ৪০ শতাংশের ওপরে থাকা নয়টি আসনের ছ’টিতে এগিয়ে বা জয়ী হয়েছে এআইএমআইএম। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা হারিয়েছে মহাগঠবন্ধনের প্রধান দলগুলিকে।

আসাউদ্দিন ওয়েইসি
শেষ আপডেট: 14 November 2025 18:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার নির্বাচনের (Bihar Election) অঙ্ক কষতে গেলে প্রথমেই উঠে আসে এক নাম - এআইএমআইএম (AIMIM)। সীমাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাধিক্য (Minority) অঞ্চলে মহাগঠবন্ধন যে জমি ধরে রাখতে পারেনি, সবচেয়ে শক্ত প্রমাণ সেই অঞ্চলের ফলাফলে। একসময় সংখ্যালঘু ভোট যেখানে প্রায় নিঃশর্তে মহাগঠবন্ধনের (Mahagatbandhan) দিকে যেত, এবার সেখানে তৈরি হয়েছে বড় ফাটল - আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে এনডিএ।
২০২০ সালে সীমাঞ্চলে প্রথমবার পা রেখে পাঁচটি আসন জিতেছিল ওয়েইসির দল (Asauddin Owisi)। যদিও পরের বছর চার বিধায়ক আরজেডিতে চলে যাওয়ায় সংগঠনের শক্তি অনেকটাই হ্রাস পায়। কিন্তু ২০২৫ সালের ভোটে সেই হারানো জমি আরও শক্ত করে দখল করার চেষ্টা তারা স্পষ্টতই করেছে। ২৫ জন প্রার্থী দেওয়া হলেও, তার মধ্যে ২৪ জনই সীমাঞ্চলের আসনে—কৌশল ছিল একেবারে কেন্দ্রীভূত।
সেই পরিকল্পনারই প্রতিফলন দেখা গেল ফলাফলে। মুসলিম জনসংখ্যা ৪০ শতাংশের ওপরে থাকা নয়টি আসনের ছ’টিতে এগিয়ে বা জয়ী হয়েছে এআইএমআইএম (AIMIM)। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা হারিয়েছে মহাগঠবন্ধনের প্রধান দলগুলিকে। আরজেডি বা বামফ্রন্ট—কোনও দলের পক্ষেই এই অঞ্চলে নিজেদের ভরসার জায়গা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। কেবল কিশনগঞ্জে কোনওভাবে লড়াই ধরে রাখতে পেরেছে কংগ্রেস (Congress)।
এর ঠিক উল্টো ছবি সীমাঞ্চলের বাইরে। মুসলিম জনসংখ্যা যেখানে ২৫ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে, সেই অপেক্ষাকৃত মিশ্র জনবিন্যাসের আসনগুলিতে ভোটযুদ্ধ কার্যত একতরফা হয়েছে। মোট ১৩টির মধ্যে ১২টি আসন দখল করেছে এনডিএ-র (NDA) বিজেপি–জেডিইউ–এলজেপি (আরভি) জোট। মহাগঠবন্ধনের পক্ষে এই অঞ্চলে একমাত্র সাফল্য এসেছে আরজেডির একটি আসন থেকে; বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের ভাগ্যে কিছুই জোটেনি।
এআইএমআইএমের প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্ট হয়েছে ভোট শতাংশের অঙ্কে। নয়টি আসনে দলের ভোট ১৫ শতাংশের ওপরে; আরও আটটিতে ৫ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে। এ শতাংশ জয়ের জন্য যথেষ্ট না হলেও, বিরোধী ভোটভিত্তিতে বড় চিড় ধরানোর জন্য তা যথেষ্ট। বেশ কয়েকটি আসনে দেখা গেছে—এআইএমআইএমের ভোট না থাকলে মহাগঠবন্ধনের প্রার্থীরাই এগিয়ে থাকতেন।
এক্ষেত্রে বলা যায়, একটা ভুল কংগ্রেস (Congress) ও আরজেডি (RJD) দুজনেই। আসাদউদ্দিন ওয়াইসিকে ঠেকাতে তারা আগে থেকেই খুব বেশি কৌশলী ছিল না। অনেকটাই হালকাভাবে নিয়েছিল। তার খেসারত দিতে হয়েছে সীমাঞ্চলে।
এই চিত্র মনে করিয়ে দেয়, মুসলিম ভোট কোনও ভাবেই একঢাল নয়। সীমাঞ্চলে ভাষা, পরিচয় ও সামাজিক পটভূমির যে বৈচিত্র্য রয়েছে, তা রাজনৈতিক আচরণে প্রতিফলিত হয়। সেই জায়গাতেই এআইএমআইএম প্রশ্ন তুলেছে—ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি করা বড় দলগুলি সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বকে কি যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে? ওই বক্তব্যই যে প্রচারের মাঠ থেকে ভোটবাক্স পর্যন্ত পৌঁছেছে, তা এবার স্পষ্ট।
২০২৫-এর বিহার ফলাফল একটি কঠিন বাস্তব সামনে দাঁড় করাল—জোট থাকলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না। সংখ্যালঘু মহলেও যদি নতুন রাজনৈতিক বিকল্প জায়গা দখল করে, তবে মহাগঠবন্ধনের মতো বড় জোটও পিছিয়ে পড়তে পারে।