বেঙ্গালুরু, ম্যাঙ্গালুরু, তুমাকুরু, হাভেরির মতো বিভিন্ন শহরে এই ধরনের প্রতারণা হয়েছে বলে খবর।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 26 May 2025 15:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিজিটালের দুনিয়ায় কোনটা আসল এবং কোনটা নকল, তা বোঝাই এখন দায় হয়ে গেছে। আর এই বিষয়টির জলজ্যান্ত প্রমাণ পেলেন কর্নাটকের (Karnataka) একাধিক শহরের বাসিন্দাদের একাংশ। কমপক্ষে ২০০ জন প্রতারিত হয়েছেন এবং সম্মিলিতভাবে তাদের খোয়া গেছে মোট ২ কোটি টাকা! প্রতারকরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও (AI Generated Video) বানিয়ে ফাঁদে ফেলেছিলেন তাদের।
বেঙ্গালুরু, ম্যাঙ্গালুরু, তুমাকুরু, হাভেরির মতো বিভিন্ন শহরে এই ধরনের প্রতারণা হয়েছে বলে খবর। পুলিশ জানিয়েছে, ট্রাম্পের এআই জেনারেটেড ভিডিও তৈরি করে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগের লোভ দেখিয়েছিল প্রতারকরা। তাতে যারা যারা পড়েছেন তাদের খোয়া গেছে মোটা টাকা। শুধুমাত্র হাভেরিতেই ১৫ জন প্রতারিত হয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

বিগত কয়েক মাস ধরেই কর্নাটকের নানা শহরে ট্রাম্পের এই ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল। সাইবার প্রতারকরা আমজনতাকে লোভ দেখিয়েছিল যে 'ট্রাম্প রেন্টাল'-এ বিনিয়োগ করলে বেশি রিটার্ন পাওয়া যাবে। পাশাপাশি মোটা বেতনের বিনিময়ে বাড়ি থেকে কাজের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল প্রতারিতদের। সেই ফাঁদে পড়েই শেষ পর্যন্ত মোটা টাকা হারান অন্তত ২০০ জন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারকরা প্রথমে দেড় হাজার টাকা বিনিয়োগ করার কথা বলেছিল। তারপর প্রতারিতদের বলা হয়েছিল কোম্পানির হয়ে লেখালেখির কাজ করতে। এর জন্য প্রত্যেকের আলাদা আলাদা প্রোফাইল তৈরি করা হয়েছিল ওই সংশ্লিষ্ট অ্যাপে। তাতে কে কত টাকা পাচ্ছে সেটাও দেখানো হত কিন্তু আদতে পুরোটাই ভুয়ো। কারও অ্যাকাউন্টে কোনও টাকাই ঢুকত না।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে প্রতারিত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, গত জানুয়ারি মাস থেকে এপ্রিলের মধ্যে 'ট্রাম্প রেন্টাল' অ্যাপে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি। প্রথমে সেই অ্যাপে প্রোফাইল বানাতে হয়েছিল, তার জন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ডিটেইলসও দিতে হয়েছিল। তিনি এও জানিয়েছে, প্রোফাইল খোলার পর তাঁকে দেড় হাজার টাকা দিতে বলা হয়। তারপর জানান হয়েছিল, প্রতিদিন তিনি ৩০ টাকা করে পাবেন। তবে ৩০০ টাকা জমা না পর্যন্ত কোনও টাকা অ্যাপ থেকে তুলতে পারবেন না।
৩০০ টাকা হয়ে যাওয়ার পরই প্রতারকরা তাঁকে আরও বিনিয়োগ করে বেশি রিটার্নের লোভ দেখিয়েছিল। বলেছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প হোটেলে বিনিয়োগ করতে। তারই ফাঁদে পড়ে ৫ হাজার থেকে শুরু করে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি। শেষমেশ ৬ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ পর তিনি এখনও কোনও টাকা রিটার্ন পাননি বলে অভিযোগ।