ভালবাসার মানুষটাকে আর কখনও পাশে পাবেন না, এই কঠিন বাস্তব এখনও মেনে নিতে পারছেন না সাগর। তাই এই পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কিছুদিনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকবেন তিনি। তবে সকলের আশীর্বাদ ও প্রার্থনা কামনা করেছেন সাগর।
_0.jpg.webp)
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট সাগরের
শেষ আপডেট: 19 June 2025 22:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার (Ahmedabad Plane Crash) পর নিজেদের প্রিয়জনেদের বেঁচে থাকার আশা নিয়ে তাঁদের খোঁজে হাসপাতালে গিয়েছিলেন বহু মানুষ। তাঁদের মধ্যেই একজন সাগর পাটিল (Sagar Patil Viral Video)। তাঁর প্রেমিকা অভিশপ্ত বিমানটির ক্রু সদস্য ছিলেন। দুর্ঘটনার পরই হাসপাতালে যান সাগর। সেখানে একটা বেঞ্চে অবিরাম বসে অপেক্ষা করতে থাকেন। চোখে জল, কণ্ঠ রুদ্ধ- ভাইরাল হয় তাঁর কান্নার ভিডিও। কখনও অপেক্ষার দৃষ্টিতে চেয়ে রয়েছেন, কখনও কেঁদে উঠছেন। 'বিমানে আপনার কে ছিলেন?' এই প্রশ্নের উত্তরে সাগর বলেছিলেন, 'আমার ভালবাসা'। আমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা (Ahmedabad Plane Crash) বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, কিন্তু এই কান্নার ভিডিও যেন সেই সংখ্যার বাইরেও এক ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের ছবি তুলে ধরল।
দুর্ঘটনার এক সপ্তাহ পর সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ভালবাসার মানুষটিকে মনে করেই কিছু কথা লিখলেন সাগর। লিখেছেন, 'আমি সবসময় চাইতাম মানুষ আমাকে চিনুক, আমাকে পছন্দ করুক। কিন্তু ও বলত, 'বিখ্যাত হওয়ার প্রয়োজন নেই, জীবন যত প্রাইভেট থাকবে, ততটাই সহজভাবে কাটানো যাবে, কারও নজর লাগবে না।...' 'জানি না কার নজর লেগে গেল! যাওয়ার আগে ও আমাকে গোটা পৃথিবীর ভালবাসা পাইয়ে দিল। নাম পেলাম, মানুষ আমার পাশে দাঁড়াল। ও আমার লাকি চার্ম ছিল আর সব সময় থাকবে।'
ভালবাসার মানুষটাকে আর কখনও পাশে পাবেন না, এই কঠিন বাস্তব এখনও মেনে নিতে পারছেন না সাগর। এই পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কিছুদিনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকবেন তিনি। তবে সকলের আশীর্বাদ ও প্রার্থনা কামনা করেছেন সাগর।
জানা গিয়েছে, সাগর পাটিলের প্রেমিকা এয়ার ইন্ডিয়া বিমান এআই-১৭১-এর (Air India flight AI-171) ক্রু সদস্য ছিলেন। গত ১২ জুন আমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল এয়ারইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার। টেক অফের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভেঙে পড়ে সেটি। বিমানে ছিলেন দুজন পাইলট, ১১ জন ক্রু সদস্য এবং ২৪২ জন যাত্রী। যেভাবে বিমানটি আগুনে পুড়েছে, প্রাথমিকভাবে কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করা হয়েছিল। যদিও শেষপর্যন্ত ১১এ সিটের যাত্রী বিশ্বাস কুমার রমেশ প্রাণে বেঁচেছেন।
এরপরই মৃতদেহ শনাক্তকরণের জন্য ডিএনএ টেস্ট শুরু হয়। একে একে পরিবারের হাতে মরদেহ তুলে দেওয়া হয়।
অভিশপ্ত বিমানটি জুনিয়র চিকিৎসকদের হস্টেলে ভেঙে পড়েছিল। প্রায় ৩০ জন জুনিয়র চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনাস্থলের আশেপাশে থাকা বহু মানুষও প্রাণ হারিয়েছেন।
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ছিলেন ৫৩ বছর বয়সি সরলা বেন এবং তাঁর নাতনি আধ্যা। তাঁরাও এতদিন নিখোঁজ ছিলেন। ডিএনএ মিলিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা। সরলা বেন ছিলেন বিজে মেডিক্যাল কলেজ হস্টেলের রাঁধুনি। তাঁর ছেলে ও ছেলের বৌ হাসপাতালে খাবার ডেলিভারি দেওয়ার কাজ করতেন। দুপুরে খাবার ডেলিভারি দিতে যখন যেতেন, তখন সন্তানকে রেখে যেতেন সরলা বেনের কাছে। বাড়ির সবচেয়ে বড় সদস্য ও সবচেয়ে ছোট সদস্যকে হারিয়ে এখন দিশেহারা তাঁদের পরিবার।