রাজ্যের ফরেনসিক দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৮টি মৃতদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে।

সরলা বেন ও তাঁর নাতনি
শেষ আপডেট: 19 June 2025 18:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমদাবাদের মেঘানী নগরে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার সাত দিন কেটে গেলেও বহু পরিবার এখনও ভুগছে অনিশ্চয়তায়। এখনও নিখোঁজ একাধিক। হন্যে হয়ে খুঁজছে তাঁদের প্রিয়জন। অনেকেই ভাবছেন, হয়তো বেঁচে আছেন। ডিএনএ মিলিয়ে ধীরে ধীরে সামনে আসছে সত্যি। দেহ তুলে দেওয়া হচ্ছে পরিবারের হাতে।
এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনগামী ফ্লাইট AI171 গত ১২ জুন দুপুর ১টা ৩৮ মিনিট নাগাদ টেক-অফের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়ে বিজে মেডিক্যালের হস্টেলের ওপর। প্রাণ যায় বিমানের ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জনের। মৃত্যু হয় বহু স্থানীয় বাসিন্দা ও হস্টেল পড়ুয়ার। দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ছিলেন ৫৩ বছর বয়সি সরলা বেন এবং তাঁর নাতনি আধ্যা। তাঁরাও এতদিন নিখোঁজ ছিলেন। ডিএনএ মিলিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা। বাড়ির সবচেয়ে বড় সদস্য ও সবচেয়ে ছোট সদস্যকে হারিয়ে এখন দিশেহারা তাঁদের পরিবার।
সরলা বেন ছিলেন বিজে মেডিক্যাল কলেজ হস্টেলের রাঁধুনি। মেডিক্যাল পড়ুয়াদের রান্না করে খাওয়াচ্ছিলেন বিগত দশ বছর ধরে। আগে সিভিল হাসপাতালে কাজ করতেন, হস্টেল তৈরি হওয়ার পর সেখানেই কাজ শুরু করেন। তাঁর ছেলে ও ছেলের বৌ হাসপাতালে খাবার ডেলিভারি দেওয়ার কাজ করতেন। দুপুরে খাবার ডেলিভারি দিতে যখন যেতেন, তখন সন্তানকে রেখে যেতেন সরলা বেনের কাছে।
১২ জুন দুপুরে যখন ড্রিমলাইনারটি ভেঙে পড়ে, সরলা বেন ও তাঁর একরত্তি নাতনি মেসের ভিতরে ছিলেন। তাঁর পুত্রবধূ ও ছেলে হাসপাতালের জন্য টিফিন বয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। দশ মিনিট আগে তাঁরা মেস বাড়ি না ছাড়লে হয়তো তাঁদের নামও থাকত মৃতের তালিকায়।
সরলার ভাই ভরত সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, 'আমরা প্রতিটি হাসপাতালে খোঁজ করেছি, মিডিয়ার সাহায্য চেয়েছি। সাত দিন পরে হাসপাতাল থেকে ফোন আসে, জানানো হয় ডিএনএ মিলে গেছে। তখনই নিশ্চিত হই।'
দুর্ঘটনার সময় ৬০-৭০ জন এমবিবিএস পড়ুয়া ছিলেন ওই মেসে। অনেকে এখনও বার্ন ইনজুরি নিয়ে হাসপাতালেই ভর্তি। যাত্রী ছাড়া আর কত জন মারা গেছেন, সে সংখ্যা পাওয়া যায়নি। এদিকে দুর্ঘটনায় একমাত্র বেঁচে যান ১১এ সিটের যাত্রী। হস্টেলের পড়ুয়াদের অনেকেও চোখের সামনে বন্ধুদের জ্বলে যেতে দেখেন কিন্তু ভাগ্যের জোরে বেঁচে যান তাঁরা।
রাজ্যের ফরেনসিক দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৮টি মৃতদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে। অধিকাংশ পরিবারই আনন্দ ও খেড়া জেলা থেকে আমদাবাদে এসে অপেক্ষা করছেন নিজেদের প্রিয়জনের দেহ ফিরে পাওয়ার জন্য। সরলা বেনের পরিবারও শেষমেশ ডিএনএ পরীক্ষার পর শনাক্ত করতে সক্ষম হয় তাঁর দেহ।
রাজ্য সরকার নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পাশাপাশি, দেহ শনাক্তকরণ, নথিপত্র সংক্রান্ত কাজ এবং মৃতদেহ পরিবারে ফেরানোর জন্য দায়িত্বে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্সও গঠন করা হয়েছে।
সরলা বেনের ভাই শেষে বলেন, 'আমরা খোঁজা বন্ধ করতাম না। প্রতিটি ওয়ার্ড, প্রতিটি হাসপাতাল খুঁজে গেছি। সাত দিন পরে মিলল উত্তর।' আজও সিভিল হাসপাতালের সামনে অনেক পরিবার অপেক্ষায়, হয়তো তাঁদের প্রিয়জনের খোঁজ মিলবে কোনও দিন।